• বিদ্যুতের তারের মরণফাঁদে দুর্ঘটনার ভ্রুকুটি
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বর্ষার মরশুম এলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কোথাও তার ছিঁড়ে ঘটে দুর্ঘটনা, কোথাও ভিজে তারের সংস্পর্শে আসায় তড়িতাহত হন কেউ কেউ। এই আবহে চিন্তা বাড়াচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি। বর্ষার সময় গ্রাম ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের তার, খুঁটি ভিজে সপসপে হয়ে থাকে। তার গা ঘেঁষেই চলেন অনেকে। ওই খুঁটি থেকে ঝোলে বিদ্যুতের তার। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।


    একটানা বৃষ্টিতে বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে। বিদ্যুতের বিভিন্ন খুঁটিতে খোলা তার থাকায় শর্ট সার্কিটের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে খোলা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তারপরও হুঁশ ফেরেনি দপ্তরের। ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেন মানুষজন। বারাসত শহরে একাধিক জায়গায় খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার বেরিয়ে রয়েছে। কোথাও তার ঝুলছে, কোথাও বক্সের ঢাকনা খোলা। হরিতলা, চাঁপাডালি বাসস্ট্যান্ড, ডাকবাংলো, কলোনি মোড় সহ বিভিন্ন ঘিঞ্জি এলাকায় একই চিত্র। বারাসত সদর শহর হওয়ায় এখানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যাঙ্ক, প্রশাসনিক ভবন। পাশাপাশি রয়েছে বাস টার্মিনাস, শপিং মল, হোটেল-রেস্তরাঁ, যেখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন মানুষজন। সেখানে পথেঘাটে এভাবে বিদ্যুতের তার উন্মুক্ত অবস্থায় থাকলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ মানুষের। কলেজ পড়ুয়া প্রিয়াংশু পাল বলেন, প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে নজর দেওয়া। যে কোনও দিন বড় বিপদ হতে পারে। ইতিমধ্যেই বারাসত পুরসভা বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা ট্রান্সফরমারগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করব। যাতে মানুষের কোনও সমস্যা না হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব।


    শুধু বারাসত শহর নয়, মধ্যমগ্রাম, হাবড়া থেকে অশোকনগর, গ্রামীণ এলাকাতেও একই চিত্র। বিভিন্ন জায়গায় একইভাবে ঝুলছে বিদ্যুতের তার। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর পান বলেন, গ্রামে রাতে রাস্তায় তেমন আলো থাকে না। কিন্তু রাস্তার ধারে বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। তা থেকেই ঝুলছে তার। যে কোনওদিন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


    উল্লেখ্য, আবহাওয়া দপ্তর আরও একটি নিম্নচাপের খবর সামনে এনেছে। ফলে, কলকাতা সহ আশপাশের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে বিদ্যুৎ দপ্তর বিদ্যুতের তারের খোলা মুখ বন্ধ না করে তাহলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ মফিদুল হক সাহাজি বলেন, দ্রুত এনিয়ে আলোচনায় বসব। কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এনিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের বারাসত ডিভিশনের আধিকারিককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকী, মেসেজেরও উত্তর দেননি ওই শীর্ষকর্তা।
  • Link to this news (বর্তমান)