নদীয়ায় ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে রাস্তা নিয়ে সাড়ে চারশোর বেশি অভিযোগ
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কর্মসূচির মাধ্যমে নদীয়া জেলা থেকে রাস্তার সমস্যা নিয়ে সাড়ে চারশোর বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই সমস্ত রাস্তার ভেরিফিকেশন শুরু করল জেলা প্রশাসন। এর মাধ্যমে কোন কোন রাস্তার কাজ হবে-তার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। পথশ্রী-৪ প্রকল্পে সেই সমস্ত রাস্তা তৈরি ও সংস্কার করবে রাজ্য সরকার। প্রশাসন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, বেহাল রাস্তার তালিকা তৈরি করতে চাইছে। কারণ ইতিমধ্যেই পথশ্রী-৩ প্রকল্পের রাস্তার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই কাজের বিল মেটানোর প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে ৪৬৮টি রাস্তা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই তালিকা পেতেই আমরা ভেরিফিকেশন শুরু করেছি। ওই সমস্ত রাস্তা কোনও পুরনো প্রকল্পে যুক্ত আছে কিনা, সেই রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কতটা-এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছিল। আগে এটি ‘দিদিকে বলো’ নামে পরিচিত ছিল। সেই নম্বরেই ফোন করে রাজ্যের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে পারছেন। এর মধ্যে রাস্তা নিয়ে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।
পথশ্রী-৩ প্রকল্পেও ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে জমা পড়া অভিযোগকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলাজুড়ে ২৪৮টি রাস্তা তৈরি করা হয়। সবমিলিয়ে, পথশ্রী-৩ প্রকল্পে ৮৩ কোটি টাকায় জেলায় ২৭৮ কিমি রাস্তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেই কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তার গুণগত মান ঠিক রয়েছে কিনা, তা জানতে জেলা প্রশাসন সমীক্ষা করছে। প্রথমে প্রতিটি ব্লকের বিডিও ও ইঞ্জিনিয়ার ১০০ শতাংশ রাস্তা পরিদর্শন করছেন। এরপর জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটরা ২৫ শতাংশ রাস্তা পরিদর্শন করছেন। সেইসঙ্গে ল্যাবে রাস্তার নমুনা পরীক্ষাও করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই ঠিকাদার বা এজেন্সিকে বিল দেওয়া হবে।
পথশ্রী-৩ প্রকল্পের কাজ মিটতে না মিটতেই পথশ্রী-৪ এর কাজ শুরু করতে চলেছে প্রশাসন। যার জন্য ইতিমধ্যেই রাস্তা নিয়ে অভিযোগের লম্বা লিস্ট জমা পড়েছে। সাড়ে চারশোর বেশি রাস্তা প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করেছে। যার ভিত্তিতে ব্লক, জেলা পরিষদ ও ডব্লুবিএসআরডিএ’র মধ্যে কাজ ভাগ করা হবে। গড়ে এক-দেড় কিমি দীর্ঘ রাস্তার বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রতি রাস্তার জন্য গড়ে ২০-২৫ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন।