নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: নলকূপ না বসিয়েই সরকারি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ঠিকাদার’ তথা তৃণমূল ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে। বিষয়টি জেনে ইন্দপুরের ব্লক তৃণমূল সভাপতি রেজাউল খানকে শোকজ করল জেলা নেতৃত্ব। সোমবার বাঁকুড়ার সংসদ সদস্য তথা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরূপ চক্রবর্তী রেজাউল সাহেবকে শোকজ করেছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে শোকজের জবাব চাওয়া হয়েছে। অরূপবাবু বলেন, ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ এসেছে। তার জেরে রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশের ভিত্তিতে ব্লক সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব দিলে তা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারাই নেবে।
জানা গিয়েছে, ইন্দপুরের গৌরবাজার পঞ্চায়েত এলাকায় সাতটি জায়গায় সোকপিট সহ টিউবওয়েল বসানোর বরাত মেলে। অভিযোগ, ওই টিউবওয়েল বসানোর কাজ করেননি ঠিকাদার রেজাউল খান। নলকূপ না বসিয়েই লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে ইন্দপুরের সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক শৈলেন গোস্বামী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। শৈলেনবাবু বলেন, গৌরবাজারের সাতটি গ্রামে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল থেকে নলকূপ বসানোর নাম করে সরকারি অর্থ তছরূপ হয়েছে। ওই প্রকল্পগুলির ঠিকাদার ও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রেজাউল খান একই ব্যক্তি। এভাবে টাকা আত্মসাৎ করার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা চাই ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সিপিএমের অভিযোগ, গৌরবাজার পঞ্চায়েতের কেলিয়াপাথর, শিবরামপুর, রাওতোড়া সহ মোট সাতটি এলাকায় নলকূপ বসানোর নাম করে টাকা তোলা হয়েছে অথচ সেখানে নলকূপ বসেনি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল থেকে ঠিকাদারকে সরকারি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারাও এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অনেকেই সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় নলকূপ বসেনি।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রেজাউল খান অবশ্য বলেন, সিপিএমের অভিযোগ ভিত্তিহীন। নির্বাচনে মানুষ তাদের পাশে নেই। সেটা প্রমাণিত হয়েছে। তাই সরকারকে কালিমালিপ্ত করতে মিথ্যে অভিযোগ করছে। ঠিকাদার রেজাউল খান আর তিনি এক ব্যক্তি নন বলেও ব্লক সভাপতি সংবাদ মাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন। দলের শোকজ প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি বলেন, শোকজের কোনও চিঠি এখনও পর্যন্ত পাইনি। পেলে জবাব দেব।
তৃণমূলের জেলা স্তরের এক নেতা বলেন, ইন্দপুরের এই ঘটনায় দল যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে। তাছাড়া দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দল বরদাস্ত করবে না। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে পারে দল।