সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। খালবিল, পুকুর, নালায় সেভাবে জল নেই। পাটের জাঁক দেওয়া হবে কোথায়? কাটোয়া, পূর্বস্থলীজুড়ে নিজের জমিতেই খাল কেটে জল ভরে পাট জাঁক দিচ্ছেন চাষিরা। বেশি টাকা ভাড়া দিয়েও মিলছে না পুকুর। বৃষ্টির অভাবে পাট পচানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের কৃষিদপ্তরের আধিকারিক জীবন নাথ বলেন, সেভাবে বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ফলে পাট পচানোয় চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে। চাষিদের খরচ বাড়ছে। তবে পাট জাঁক দেওয়ার সময় এখনও চলে যায়নি। তবুও যে যেখানে পারেন পাট পচাতে দিন। তাতে পাটের গুণগত মান ভালোই হবে। কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকেও পাট জাঁক দেওয়ার বিশেষ পাউডার দেওয়া হচ্ছে।
কাটোয়া মহকুমায় গড়ে ৯৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। এরমধ্যে কাটোয়া-১ ব্লকে প্রায় ১৭০, কাটোয়া-২ ব্লকে ৪৬৫, কেতুগ্রাম-১ ব্লকে ৬৫, কেতুগ্রাম-২ ব্লকে ২১৫ ও মঙ্গলকোটে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গড়ে পাট চাষ হয়। আর পূর্বস্থলী-২ ব্লকে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। কাটোয়া-২ ব্লকে অগ্রদ্বীপ, জগদানন্দপুর, গাজিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বেশি পাট চাষ হয়। কেতুগ্রাম-২ ব্লক এলাকায় সীতাহাটি, মৌগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলে বেশি পাট চাষ হয়। এবার বৃষ্টির অভাবে পাটে জাঁক দেওয়া নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন চাষিরা। অনেকে জমি থেকে এখনও পাট কাটেননি। কারণ তাঁরা জাঁক দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জল পাচ্ছেন না। অনেকে মাছ চাষ করা পুকুর ভাড়া দিতে রাজি নয়। পূর্বস্থলীতে নিজের জমিতেই আল বেঁধে সাবমার্সিবলের জল কিনে দ্বিগুণ টাকা খরচ করে পাট জাঁক দিচ্ছেন। কাটোয়া মহকুমারজুড়েও অধিকাংশ চাষিই নিজের জমিতে খাল কেটেছেন। তারপর সেখানে প্লাস্টিক দিয়ে জল ভরে পাট পচাচ্ছেন।
পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলার চাষি সুমন দাস বলেন, পাটে জাঁক দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ বৃষ্টির দরকার তা এখনও হচ্ছে না। পাটে জাঁক দিতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। লাভ হবে কীভাবে? চাষের খরচই উঠবে না। জমিতেই জল ভরে জাঁক দিতে হচ্ছে। আর এক চাষি সজল দাস বলেন, এবার সাত-আট বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। জমিতেই আল বেঁধে ঘণ্টায় ২০০টাকা দরে জল কিনে পাটের জাঁক দিতে হচ্ছে। যে দামে পাট বিক্রি করব তাতে আমাদের খরচই উঠবে না। পাটের জাঁক দিতে গিয়েই প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলে নালা, পুকুরে জল থাকত। তাহলে পাট জাঁক দিতে খরচ বেশি হতো না। গতবারের মতো এবারও জল কিনে পাটের জাঁক দিতে হচ্ছে। কাটোয়ার রামদাসপুর গ্রামের চাষিরা বলেন, পাটের ১২০দিন বয়সে জলে জাঁক দিতে হয়। বয়স বেড়ে গেলে তন্তুর মান ও রং খারাপ হয়। তবে জল বেশি থাকলে জাঁক দেওয়া ভালো হয়। তাতে মান ও রং দুটোই ভালো হয়। সেকারণে পাট পচানোর জন্য নিজের জমিতেই খাল কাটা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। পচাতে দেরি হলে গুণগত মান খারাপ হবে। দাম পাব না। এবার ভালো লোকসানের মুখে পড়তে হবে।