• নবদ্বীপে অবাধে চলছে জলাশয় ভরাট, ক্ষোভ
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: অবাধে চলছে জলাশয় ভরাট। নবদ্বীপ পুরসভা লাগোয়া বাবলারির পঞ্চায়েতের পশ্চিম পাড়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে একটি পুকুর ভরাটের কাজ চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। ইতিমধ্যেই পুকুরটির পাড়ের দিকে কিছু অংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে এই পঞ্চায়েতের রেল লাইনের পাশে নিত্যানন্দপুর কলোনি এলাকার রাস্তার ধারে  চলছে আর একটি জলাশয় ভরাট। প্রতিদিন একটু একটু করে চলছে এই জলাশয় ভরাটের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও রীতিমতো ক্ষোভে ফুসছেন তাঁরা। ওই এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সবকিছু জেনেও হেলদোল নেই প্রশাসনের। 


    মঙ্গলবার সকালে বাবলারি পঞ্চায়েতের পশ্চিম পাড়া এবং রেল লাইনের ধারে নিত্যানন্দপুর কলোনিতে দেখা গিয়েছে, ট্রাক্টর করে মাটি এনে রাখা হয়েছে। সেই মাটি ফেলা হবে জলাশয়ে। তবে ইতিমধ্যেই কিছু অংশ ভরাট হয়ে গিয়েছে। নিত্যানন্দপুর কলোনির ওই জলাশয়ের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর থেকে  ট্রাক্টর করে মাটি ফেলা হচ্ছে।   


    বাবলারি বাসস্ট্যান্ডের বাসিন্দা দিলীপ ঘোষ বলেন, চাষের জমি নষ্ট করে দিয়ে পুকুর ভরাট করছে। ফলে চাষের জমি কমে যাচ্ছে। এখানকার পুকুরগুলির জল গ্রামের লোক ব্যবহার করত। বৃষ্টির জল সেই পুকুরে যেত। কিন্তু এখন সেই জায়গাগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম পাড়ার পুকুরটি গত বছর থেকেই অল্প অল্প করে ভরাট করা হচ্ছে। ভয়ে কেউ কিছু বলে না। আমরা চাইছি জলাশয় ভরাট বন্ধ হোক।


    যদিও বাবলারির পশ্চিমপাড়া ওই জলাশয়ের মালিক মদন সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এইটা পুকুর নয়, জলাশয়ও নয়। জল জমে ছিল। এখানে মাছ ছাড়া হয় এই পর্যন্ত। ভরাট করছি না। তবে পরে ভরাট করা হবে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি নিয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রথমে পঞ্চায়েত থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারপর সেটি বিএলআরও দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর বিএলআরও দপ্তর অনুমতি দিয়েছে। এটা প্রায় এক বিঘের কাছাকাছি। আমি কিনেছি প্রায় ২০-২৫ বছর আগে । বর্ষার সময় জল থাকে, শীতকালে জল থাকে না, গোরু চড়ে। এ বছর বর্ষা পড়ে গিয়েছে। সামনের বছর মাটি ফেলার ভাবনা রয়েছে। এবছর খুব সস্তায় একজন  মাটির কথা বললেন, আমি বললাম পারে ফেলে দাও।


    পঞ্চায়েত প্রধান নারায়ণ কর্মকার বলেন, বাবলারি পশ্চিমপাড়ায় মদন সেন যেটা করছেন সে বিষয়ে পঞ্চায়েত এবং বিএলআরও দপ্তর থেকে পারমিশন নেওয়া আছে। পঞ্চায়েত থেকে ভূমি শ্রেণির পরিবর্তন করেছে। আর নিত্যানন্দপুরের জায়গাটির কোনও পারমিশন নেই। আমি পঞ্চায়েতে এসে খোঁজ নিয়েছি। ওই জায়গার মালিক রাজেশ ধরকে ডেকে পাঠিয়েছি। উনি কাজে ব্যস্ত থাকায় আগামীকাল দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন। 


    নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক নবীনকুমার গৌতম বলেন, বাবলারি পশ্চিম পাড়ার ওই জায়গা মদন সেনের নামে কলাবাগান বলে রেকর্ড করা আছে। আমরা ফিশারি ডিপার্টমেন্টকে রেফার করছি। ওই দপ্তরকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি করছি। মাটি ভরাট নিয়ে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব।
  • Link to this news (বর্তমান)