জেলায় বকেয়া বিল ১৬৫ কোটি টাকা, অভিযানে নামবে বিদ্যুৎদপ্তর
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৬৫ কোটি টাকার বিল বকেয়া বিদ্যুৎদপ্তরের। সরকারি অফিস থেকে রাজনৈতিক দলের অফিস, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক ক্লাব। সর্বত্রই বিদ্যুতের বিল বাকি পড়ে রয়েছে। বকেয়া বাড়ায় উদ্বিগ্ন বিদ্যুৎদপ্তরের আধিকারিকরা। জেলায় ১৮লক্ষ বিদ্যুতের উপভোক্তা রয়েছেন। অধিকাংশ বড় অফিস এবং প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ বিল বকেয়া রয়েছে। গতবছর অক্টোবর মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তা ১৬৫ কোটি ছাড়িয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কান্দি মহকুমায় বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। জেলা বিদ্যুৎবণ্টন দপ্তর বর্ষাকালের পর থেকে এই বকেয়া বিল আদায়ে তৎপর হবে বলে জানা গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার জোনাল ম্যানেজার দীপককুমার মণ্ডল বলেন, আমরা নিয়মিত এই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের জন্য ফলোআপ করছি। যার ফলে প্রতি বছর শেষে আমরা অধিকাংশ বিদ্যুতের বিল আদায় করতে পারি। প্রতি বছর আমাদের ৯০-৯৫শতাংশের বেশি বিদ্যুতের বিল আদায় করা হয়ে যায়। গতবারের তুলনায় এবছর রিকভারি অনেক ভালো হয়েছে। গতবছর প্রায় ১২ কোটি টাকা বিদ্যুতের বিল বকেয়া ছিল। এবছর অনেক বেশি বিল বকেয়া আছে। এই বিলটি গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এবছরের জুন মাস পর্যন্ত বকেয়া। তবে আমরা আশা করছি বর্ষার পরবর্তী সময়ে এই বকেয়া বিল ধীরে ধীরে আমরা আদায় করতে পারব।
বিদ্যুৎবণ্টন দপ্তরের মুর্শিদাবাদের রিজিওনাল ম্যানেজার স্বপনকুমার মণ্ডল বলেন, আগের চেয়ে মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে। অনেক বেশি পরিমাণে বিদ্যুতের বিল পাচ্ছি। তবে এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৬৫কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। গোটা জেলাতেই সর্বত্র কম-বেশি বকেয়া রয়েছে। তবে তার মধ্যে সবথেকে বেশি বাকি আছে কান্দি মহকুমায়। যারা টাকা দেয় না তাদেরকে আমরা নোটিস পাঠাই। আমরা প্রতিনিয়ত ফলোআপ করায় ১০-১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুতের বকেয়া বিল আদায় করতে পারছি।
যদিও জেলার বেশকিছু অংশের উপভোক্তারা বিদ্যুৎদপ্তরের পরিষেবায় বিরক্ত। বেলডাঙা, সাগরদিঘি, রঘুনাথগঞ্জ, জলঙ্গি, সাগরপাড়া, কান্দি এলাকায় বেশকিছু জায়গায় বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও বারবার লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। এরফলে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এইসব এলাকার অনেক উপভোক্তা বিদ্যুতের বিল মেটাতে চাইছেন না। পরিষেবা ভালো হলে বিদ্যুতের বিল মেটানো হবে বলে তাঁদের দাবি। বেলডাঙার সারগাছির কিছু বাসিন্দা বলেন, তীব্র গরমে আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সারগাছির সাবস্টেশনে গিয়ে আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি। পরিষেবা কিছুটা ঠিক হয়েছে। ভালো পরিষেবা পেলে অবশ্যই বিদ্যুতের বিল দেব।
যদিও বিদ্যুৎবণ্টন দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, জেলায় বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষ না জানিয়েই এসি লাগিয়ে নিয়েছেন। সেকারণে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। আমরা খবর পেলে সেখানে হয় নতুন ট্রান্সফর্মার বসাচ্ছি, না হলে যে ঘাটতি হচ্ছে সে সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।