নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিটের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রায় দু’বছর পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন। নিটে সফলও হয়েছেন বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন রাজাবাগানের বাসিন্দা দেবস্মিতা দাস। সর্বভারতীয় এই পরীক্ষায় ৭০০ নম্বর পেয়েও তিনি নিশ্চিন্তে নেই। এবার নিটের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা ভেবে তাঁর রাতের ঘুম চলে গিয়েছে।
তিনি বলেন, যাঁরা অসৎ উপায় নিয়েছিলেন, তাঁরা যেন কখনও চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ না পান। কিন্তু যাঁরা সৎভাবে পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের সুযোগ দেওয়া হোক। কিছুজনের জন্য সবাইকে কেন খেসারত দিতে হবে? যাঁরা অসৎ উপায়ে সুযোগ পেতে চাইছেন, তাঁরা মানুষের চিকিৎসা করবেন কীভাবে। ওঁরা সুযোগ পেলে সমাজের ক্ষতি হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভালোই হবে। কিন্তু যাঁরা সারা বছর খেটে ভালো ফল করেছেন, তাঁরা কেন সমস্যায় পড়বেন? তাঁদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হোক। পুরো পরীক্ষা বাতিল হলে তাঁদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ তাঁরা অনেক পরিশ্রম করে ভালো ফল করেছেন। তিনি আরও বলেন, ভালো ফল করার জন্য একটা বছর পড়াশোনা ছাড়া অন্য কিছুই করিনি। পুজো বা অন্য অনুষ্ঠানেও যোগ দিইনি। স্বপ্নপূরণের জন্য অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। সেই স্বপ্ন ভাঙার অধিকার কারও নেই।
ওই ছাত্রী ১৭৩৭ র্যাঙ্ক করেছেন। তাঁর মা সুচরিতা দাস বলেন, মেয়ে নিটের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। কিন্তু নিট নিয়ে কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর ও খুব কষ্টে আছে। এত ভালো ফল করার পরও পড়ার সুযোগ না পেলে ও মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়বে। সোমবার নিট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা ছিল। রায় যাতে সৎ পরীক্ষার্থীদের দিকে যায়, তারজন্য ও এদিন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিয়েছে। আমার মেয়ের মতো আরও অনেকেই সৎভাবে পরীক্ষা দিয়ে সফল হয়েছে। তাদের প্রতি যেন অবিচার না করা হয়। তিনি আরও বলেন, মেয়ে খুব উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লক্ষ্যপূরণের জন্য ও সবকিছুর সঙ্গে আপোষ করেছে। একটা বছর পড়াশোনা ছাড়া ও কিছুই বোঝেনি। তারপরও এরকম হলে কার মানসিক অবস্থা ভালো থাকে?দেবস্মিতার বাবা দেবাশিস দাস রেলে চাকরি করেন। মা গৃহবধূ। মেয়ের সাফল্যে তাঁরা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু নিট কেলেঙ্কারির খবর সামনে আসার পর তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছেন।