সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রথের রাজভোগ ও দেবভোগ পেতে বিষ্ণুপুরের কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জে রোজ লম্বা লাইন পড়ছে। মল্লরাজাদের স্মৃতিবিজড়িত রথে রবিবার থেকে পঞ্চব্যঞ্জন সহ পোলাও ভোগ বিতরণ শুরু হয়েছে। উল্টোরথের দিন পর্যন্ত তা চলবে। উদ্যোক্তারা জানান, কৃষ্ণগঞ্জে রাজভোগ এবং মাধবগঞ্জে দেবভোগ বিতরণ করা হয়। দু’টি জায়গা মিলিয়ে গত বছর প্রায় ৩৮ হাজার ভোগ বিতরণ হয়েছিল। প্রতি বছর ভোগের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এবার ভোগ বিতরণ গতবারের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে।
কৃষ্ণগঞ্জ আটপাড়া ষোলোআনা কমিটির সভাপতি রবিলোচন দে বলেন, বিষ্ণুপুরে রাজদরবারের সামনে লালজিউ মন্দিরে অধিষ্ঠিত রাধালালজীউ ঠাকুরকে একসময় আমাদের মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই মল্লরাজাদের স্মৃতিবিজড়িত প্রভুকে রথের সময় রাজভোগ দেওয়া হয়।
মাধবগঞ্জ ১১পাড়া ষোলোআনা কমিটির কর্মকর্তা তথা বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী বলেন, বিষ্ণুপুরে মল্লরাজাদের সময় থেকে চলে আসা রথযাত্রা উৎসব আজও খুব জনপ্রিয়। ৩৫০ বছর আগে রথ শুরু হলেও দেবভোগের প্রচলন ১০০ বছরের বেশি আগে হয়েছে। আমাদের প্রভু রাধামদনগোপাল জীউর নিত্যপুজোয় অন্নভোগ দেওয়া হয়। তবে রথের সময় প্রভু রাজবেশে থাকেন। তাই এসময় তাঁকে পঞ্চব্যঞ্জন দিয়ে পোলাও নিবেদন করা হয়। সেইসঙ্গে ভক্তদের জন্য দেবভোগ বিতরণ করা হয়। তা পেতে রোজ দু’-আড়াই হাজার ভক্ত আসেন।
দুই গঞ্জেই ভোগে বাদশাভোগ চালের পোলাও, ডাল, আলুভাজা, সব্জি, পায়েস ও চাটনি থাকে। ভক্তরা রোজ লাইন দিয়ে তা নিয়ে যান। কোনও বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সেজন্য আগে থেকে কুপন দেওয়া হয়। প্রতি বছর ভোগের চাহিদা বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলেন, মায়াপুর, নবদ্বীপ, কামারপুকুর, জয়রামবাটি প্রভৃতি তীর্থক্ষেত্রে ভোগের ব্যাপক চাহিদা থাকে। বিষ্ণুপুরে আসা পর্যটকরাও ভোগের খোঁজ করেন। সেটা ভেবে দু’বছর আগে পর্যটকদের জন্য সারা বছরই ভোগ বিতরণ করতে দুই গঞ্জ থেকে যৌথভাবে শহরের হাইস্কুল মোড়ে একটি কাউন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিষ্ণুপুরের ট্যুরিস্ট গাইড অসিত দাস বলেন, বহু পর্যটক বেড়াতে এসে প্রসাদের কথা জিজ্ঞাসা করেন। এত মন্দির থাকা সত্ত্বেও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা নেই শুনে তাঁরা হতাশ হন। পর্যটকদের জন্য সারা বছর ভোগের ব্যবস্থা হলে তাঁরা খুব খুশি হবেন। আগামী দিনে ফের এবিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।