কলকাতার ধরনেই হকার তালিকা তৈরি করে কৃষ্ণনগরে পুনর্বাসনের ভাবনাচিন্তা
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো কলকাতার ধরনেই কৃষ্ণনগরে হকারদের তালিকা তৈরির করে পুনর্বাসনের ভাবনা চিন্তা করছে জেলা প্রশাসন। সেভাবে কৃষ্ণনগর পুরসভাকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে হকারদের উপর করা পুরসভার সার্ভে খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেখা হচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিকভাবে খারাপ থাকা কোনও হকার বঞ্চিত না হয়। একইসঙ্গে কৃষ্ণনগরে বাড়ি, এমন হকাররা যেন কোনওভাবে এই সার্ভে থেকে বাদ না যান। সেক্ষেত্রে হকারদের লোকেশনে থেকে আয় সহ সমস্ত তথ্য পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে হকারদের মোবাইল ফোনের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক করে জিও ট্যাগিং করতে। এর ফলে সঠিক হকার চিহ্নিত করে ন্যূনতম যেরকম জায়গার প্রয়োজন, সেরকম ব্যবস্থা করা বা পুনর্বাসনের ভাবনা চিন্তা করছে জেলা প্রশাসন। সার্ভেতে কী উঠে আসে, আগে সেটা দেখতে চাইছে জেলা প্রশাসন। কোনও হকারের আয় কেমন, সেটা সার্ভেতে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কত বছর ধরে হকার কাজ করছেন, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণনগরের ক্ষেত্রে পুর এলাকায় যাঁদের বাড়ি আছে, আগে তাঁদের অ্যাডভান্টেজ এক্ষেত্রে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
মূলত, এটা টাউন প্ল্যানিং। টাউন ভেন্ডিং কমিটি ছিল। সেক্ষেত্রে পুরসভাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে টাউন প্ল্যানিং ভেন্ডিং কমিটির মাধ্যমে শহরটাকে কীভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা যায়। তাই হকার, দোকানপাট, পার্কিং-এ সমস্ত কিছু পুরসভার দেখার কথা। তাই আগামী ১ মাস ধরে পুরসভাকে সার্ভে করার সময় দেওয়া হয়েছে।
জিও ট্যাগ করলে বোঝা যাবে, কোন রাস্তায় কোন লোকেশনে হকার তার পসরা নিয়ে বসত। তাই এখানে ছলছাতুরির কোনও জায়গা নেই। জানা যাচ্ছে, পুনর্বাসনের ভাবনা চিন্তায় হকার জোনের বিষয়টি রয়েছে। যাঁর যেটুকু পুনর্বাসন করার জন্য প্রয়োজন, সেটুকুই করা হবে। পুরসভার এই সার্ভে তালিকা যাতে সমস্ত কিছু দেখে ঠিকঠাকভাবে হয়, সে কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। পুরসভা ও শ্রমিক সংগঠনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা কৃষ্ণনগরে ফলপট্টি, আর এন ঠাকুর রোড, এম এন ঘোষ স্ট্রিট , অনন্তহরি মিত্র রোডের মতো ১২ থেকে ১৩টি ফুটপাত রয়েছে। সেখানে ১ হাজার ৬০০-র বেশি হকার রয়েছে। তবে এই সংখ্যাটা দু’হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি ফুটপাত থেকে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা করা হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে পুরসভা এলাকায় দ্বিতল নিয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে পাকা ঘরও করে দেওয়া হয়েছে।
গোটা বিষয়টি নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান রীতা দাস বলেন, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিয়ে বলবেন। এ প্রসঙ্গে সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো জেলা প্রশাসনের গাইডে পুরসভার কর্তৃত্বেই এই হকার পুনর্বাসনের কাজটি করতে হবে। সার্ভে হচ্ছে। আমরা অবশ্যই পুরসভার ডেটাবেস দেখব। পুরসভাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে টাউন প্ল্যানিং ভেন্ডিং কমিটির মাধ্যমে শহরটাকে গুছিয়ে রাখার। কোথায় দোকানপাট হবে, পার্কিং হবে এ সমস্ত কিছু তারাই দেখবে।