নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ৩০ মিনিটের তফাৎ। পরপর দু’টি মেগা র্যালি দেখলেন রায়গঞ্জবাসী। রাজ্য নেতৃত্বকে নিয়ে ঢাক বাজিয়ে মিছিল করল পদ্ম শিবির। রায়গঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের শেষ বেলার প্রচারে ঝড় তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে, শিলিগুড়ি মোড়ের কাছে বিজেপির মিছিলে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে সরব হয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
বুধবার ১০ জুলাই রায়গঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন। তার আগে সোমবার ছিল নির্বাচনী প্রচারের শেষদিন। দুপুর ১টা থেকে মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। বিকেল ৩টে থেকে মিছিল ডাকে তৃণমূল। দু’টি মিছিলই শুরু হয় রায়গঞ্জ শহরের কসবা মোড় থেকে। যদিও মিছিলের জমায়েত করতে অনেকটাই দেরি হয় বিজেপির। সময়ের হেরফের ঘটে সেখানেই। দুপুর ১টার পরিবর্তে তাঁদের মিছিল শুরু হয় দুপুর আড়াইটে নাগাদ। মিছিলের প্রথমেই ছিল ঢাকিদের সুবিশাল দল। তার ঠিক পিছনে ছিল একটি সুসজ্জিত গাড়ি। সেখানে দলের রাজ্য নেতৃত্বকে নিয়ে প্রার্থীর থাকার কথা ছিল। যদিও এদিন তাঁরা কেউই মিছিল চলাকালীন গাড়িতে ওঠেননি।
দলের প্রার্থী মানস কুমার ঘোষকে নিয়ে এরপর মূল মিছিলের শুরুতেই পা মেলাতে দেখা যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমার রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালকে। সঙ্গে ছিল দলের জেলা সভাপতি সহ বিজেপির অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। এরপর হাতে নরেন্দ্র মোদির ছবি ও গেরুয়া বেলুনের গুচ্ছ হাতে একে একে শিলিগুড়ি মোড়ের দিকে বিজেপির মিছিল এগিয়ে যায়।
শিলিগুড়ি মোড়ের কাছাকাছি গিয়ে একটি আবাসন থেকে ডিম ছুড়ে মারার অভিযোগ করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, এধরনের কাজ কাপুরুষের মতো আচরণ। লড়াইয়ের ইচ্ছে থাকলে সামনে এসে লড়াই করুক। মিছিলে আমাদের নেতৃত্বের দিকে লুকিয়ে ডিম ছোড়া হচ্ছে। এটা রায়গঞ্জের সংস্কৃতি নয়। আমি এখানে ছোট থেকে বড় হয়েছি। এই ঘটনায় যে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারতেন। আমাদের তরফে অবশ্যই অভিযোগ করা হবে। তবে পুলিসের উচিত সুয়োমুটো তদন্ত করা।
বিজেপির মিছিল শেষ হওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যেই মেগা র্যালি শুরু করে তৃণমূল। প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীকে নিয়ে শহরের কসবা মোড় থেকে শুরু হয় মিছিল। মেগা রোড শোয়ের একেবারে সামনে ছিল একটি সুসজ্জিত ট্যাবলো। এর ঠিক পেছনেই ছিলেন দলীয় পতাকা হাতে তৃণমূল কর্মী -সমর্থক। তার পিছনে ছিলেন মহিলা কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের হাতে ছিল নীল বেলুনের গুচ্ছ। আবার কারোর হাতে ছিল দলীয় পাতাকা। তার পিছনে কিছুটা পরে ছিলেন রায়গঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। প্রার্থীর সঙ্গেই ছিলেন দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল, রায়গঞ্জ পুরভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন সন্দীপ বিশ্বাস উপ পুর প্রশাসক অরিন্দম সরকার সহ সমস্ত ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর ও জেলা নেতৃত্ব। এদিন কসবা মোড় থেকে রাসবিহারী বাজার, বিদ্রোহী মোড় এমজি রোড বিবাদী মোড় ঘড়ি মোড় মোহনবাটি বাজার এলাকা হয়ে মিছিল পৌঁছয় শিলিগুড়ি মোড়ে।
রায়গঞ্জ বিধানসভার উপ নির্বাচন হলেও এদিনে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন আশপাশের এলাকার বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে আছে। এবার এই আসনটি জিতে আমরা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেব।