সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: সোমবার সকাল গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না ময়নাগুড়ি ডাকঘরে। জেনারেটর থাকলেও সেটি অনেকদিন ধরে বিকল। ফলে দিনভরই বন্ধ থাকল কাজকর্ম। গ্রাহকরা এসে পরিষেবা না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্লকের অন্যতম এই ডাকঘরে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বিকল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডাকঘরে আসা গ্রাহকরা। তাঁরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি তুলেছেন। যদিও ডাকঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃষ্টি হলেই জল দাঁড়িয়ে যায়। যেখানে জেনারেটর রয়েছে, সেখানে জল ঢুকে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি। ময়নাগুড়ি ডাকঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজ আমলে পোস্ট অফিসটি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে অ্যাকাউন্ট রয়েছে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের। প্রতিদিন কমবেশি তিনশো গ্রাহক পরিষেবা নিতে আসেন। পোস্ট মাস্টার, পোস্টম্যান, এমটিএস, পোস্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মিলিয়ে ১৭ জন কর্মী কাজ করেন। তাঁরা গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে যথেষ্ট পরিশ্রম করলেও কিছু সমস্যার কারণে গ্রাহকদের তাঁদের প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
সোমবার ময়নাগুড়ি পুরসভার পক্ষ থেকে শহরের অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। তাই বিদ্যুৎ দপ্তর কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখে। এ কারণে ডাকঘরেও বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে গ্রাহকরা এসে ফিরে যান। এদিন ডাকঘরে আসা গ্রাহক লক্ষ্মী সাহা বলেন, এত বড় ডাকঘর, কিন্তু জেনারেটর চলে চা, ভাবলে আশ্চর্য লাগে। আরএক গ্রাহক সুলোচনা সাহা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে ডাকঘরে কোনও কাজ হয় না। এভাবে চলতে পারে না। বিদ্যুৎ না থাকলেই ঘুরে যেতে হয়। এভাবে কতদিন চলবে জানি না। ডাকঘরের এজেন্ট প্রদীপকুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রাহকদের পাশাপাশি আমরাও সমস্যা পড়ি। গ্রাহকদের পাশবই প্রিন্ট করে দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় প্রিন্ট করা যায় না। গ্রাহকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় আমাদের। যদিও পোস্ট মাস্টার শেখর সরকার বলেন, ডাকঘরের সমস্যাগুলির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো আছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হবে। জেনারেটরের ব্যাটারি খারাপ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।
ডাকঘরে অ্যাকাউন্ট থাকা পেনশন গ্রাহকদের অভিযোগ, এখানে এসে ঠিকমতো বসতে পারি না। কারণ, ঘরে জল পড়ে, সঙ্গে মশার উপদ্রব। পাশবই আপডেট করার জন্য বাইরে গিয়ে জানালা দিয়ে বই দিতে হয়। জানালায় উপর আবার শেড নেই। তাই রোদ-বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়তে হয়। জলের ট্যাঙ্ক ফেটে গিয়েছে। একজন এজেন্ট গ্রাহকদের জন্য জলের জারের ব্যবস্থা করেছেন। সার্ভারও অনেক সময় ঠিকঠাক কাজ করে না। তখন দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়।