• আলিপুরদুয়ারে বিজেপি ছেড়ে নেতা-কর্মীদের তৃণমূলে যোগ
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: লোকসভা ভোটে জেতার পরও আলিপুরদুয়ারে গেরুয়া শিবিরে ভাঙন। সোমবার তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি শাজাহান আলি মিয়াঁ ও জেলা সহ সভাপতি আব্দুল মজিদ মিয়াঁ। লোকসভা ভোটে শাজাহান আলি মিয়াঁ বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের জেলা অবজার্ভার পদেও ছিলেন। তাঁদের সঙ্গেই এদিন তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপির কুমারগ্রাম ব্লকের দলের ২ নম্বর মণ্ডল সহ সভাপতি নিখিল চন্দ ও ওই মণ্ডলেরই বুথ সভাপতি কমল গুহ। 


    এবার লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ারে বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিগ্গা প্রায় ৭৫ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। পাশের জেলা কোচবিহারে তৃণমূল জেতার পর স্বাভাবিকভাবে ওই জেলায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। কিন্তু আলিপুরদুয়ারে জেতার পরও বিজেপিতে ভাঙন শুরু হওয়ায় বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 


    এদিন শহরের দলের জেলা পার্টি অফিসে বিজেপির সংখ্যালঘু ও মণ্ডল পর্যায়ের নেতাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক। উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সহ সভাপতি প্রেমানন্দ দাস, দলের কুমারগ্রাম ব্লক সভাপতি ধীরেশচন্দ্র রায় ও আলিপুরদুয়ার-২ ব্লক সভাপতি পরিতোষ বর্মন। শাজাহান আলি মিয়াঁ বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে আমরা তৃণমূল করতাম। কিন্তু ২০১১ সালে আমরা বিজেপিতে যোগ দিই। কিন্তু দেখলাম বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষ দল হয়ে উঠতে পারেনি। বিভিন্ন দলীয় মঞ্চ থেকে গেরুয়া শিবিরের নেতারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। বিজেপিতে সংখ্যালঘু সেলের নেতারা কোনও যোগ্য সম্মান পান না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নে শামিল হতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। তাঁর দাবি, বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের জেলা কমিটিতে ৭৩ জন সদস্য আছেন। আগামী একমাসের মধ্যে অর্ধেক সদস্য তৃণমূলে যোগ দেবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, এবার আলিপুরদুয়ারে বিজেপি জিতেছে। তারপরও বিজেপিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। শাজাহান আলি মিয়াঁ, আব্দুল মজিদ মিয়াঁদের যোগদানে তৃণমূল জেলায় আরও শক্তিশালী হল। বিজেপি অবশ্য শাজাহান আলিদের তৃণমূলে যোগদানের ঘটনাকে পাত্তা দিচ্ছে না। বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ বলেন, এদের তৃণমূলে যোগদানের ঘটনায় দলে কোনও প্রভাব পড়বে না।
  • Link to this news (বর্তমান)