ধূপগুড়িতে নয়ানজুলি ভরাট করে নির্মাণ, জলবন্দি পরিবারের দুর্ভোগ
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: এশিয়ান হাইওয়ের দু’পাশের অধিকাংশ নয়ানজুলি ভরাট হয়ে গিয়েছে। ওইসব অংশে তৈরি হয়েছে একের পর এক নির্মাণ। ফলে বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ধূপগুড়ি থেকে গয়েরকাটাগামী এশিয়ান হাইওয়ে-৪৮ এর পাশে অবস্থিত পূর্ব মাগুরমারির হরিমন্দির পাড়া। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গ্রামের প্রায় ২৫টি বাড়িতে জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা ধূপগুড়ি ব্লক প্রশাসন ও পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গ্রামবাসীদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গিয়েছে ধূপগুড়ি থানার পুলিস। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানাবে বলে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে বৃষ্টির জল এশিয়ান হাইওয়ের ধরে নয়ানজুলি দিয়ে পার্শ্ববর্তী বামনি নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু, এখন নয়ানজুলি ভরাট করে দোকান তৈরি হয়ে গিয়েছে। দোকানঘর নির্মাণ করলেও অনেকেই হিউমপাইপ বসাননি। তাছাড়া এশিয়ান হাইওয়ে ঘেঁষে বড় বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। ফলে জল যেতে না পারায় হরিমন্দির পাড়ায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা রায় বলেন, হাঁটুজল দাঁড়িয়ে আছে রান্নাঘরে। ক’দিন ধরে উনুন জ্বালাতে পাড়ছি না। শিশুদের নিয়ে অসুবিধা হচ্ছে। নয়ানজুলি ভরাট করায় এই সমস্যা বলে জানান আরএক বাসিন্দা সুভাষ রায়। তিনি বলেন, নেতারা ভোটের আগে এসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে যান। কিন্তু, ভোটের পর এসব নিয়ে তাঁরা আর ভবেন না। আগে এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। এখন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁরা এসব সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেন না।
অপর বাসিন্দা শিশির গোস্বামী বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এশিয়ান হাইওয়ের নয়ানজুলি ভরাট করে দোকানপাট তৈরি হল। কিন্তু, দেখল না তারা। সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান বনশ্রী রায় বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। এবার বর্ষায় না হলেও আশা করছি আগামী বর্ষায় এই সমস্যা থাকবে না। এশিয়ান হাইওয়ে-৪৮ এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর জীতেন্দ্রকুমার প্যাটেল বলেন, কেন জল জমেছে তা এলাকায় গিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। নয়ানজুলি ভারাট করে দোকানপাট হলে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।