সংবাদদাতা, মালদহ: জেলার স্কুলগুলিতে সাপ নিয়ে আতঙ্ক অব্যাহত মালদহে। সোমবার মালদহ শহরের একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে খোঁজ মেলে কয়েকটি বিষধর গোখরো ছানার। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয় পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। পরে ওই সাপের বাচ্চাগুলিকে উদ্ধার করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বর্ষার মরশুমে এর আগেও মালদহের একাধিক বিদ্যালয়ে সাপের দেখা মিলেছে। স্কুলের ঝোপঝাড়ে সাপ আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে ভয় পাচ্ছে পড়ুয়ারা। আতঙ্ক রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যেও।
এদিন মালদহ শহরের পিরোজপুর এলাকার মালদহ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রহরীর ঘরের কাছে খোঁজ মেলে ওই বিষধর সাপগুলির। সর্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই সাপগুলি গোখরো প্রজাতির এবং অত্যন্ত বিষধর। এই সাপ কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করা সম্ভব হলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত। এদিন উদ্ধার হয়েছে সাতটি গোখরো সাপের বাচ্চা। তবে মা গোখরোটির সন্ধান মেলেনি। তাই দুশ্চিন্তা রয়েছেন অভিভাবকরা।
এই বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ রয়েছে। প্রাথমিক বিভাগের এক অভিভাবিকা সারিকা রায় বলেন, বাচ্চারা টিফিনের সময় খেলে বেড়ায়। এই ধরনের বিষধর সাপ স্কুলে আস্তানা গাড়লে যে কোনও মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে।
ওই বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা টুম্পা মুখোপাধ্যায় বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ছাত্রী রয়েছে। এদিন বিদ্যালয় চত্বর থেকে বিষধর সাপ উদ্ধার হয়েছে। আমরা বন দপ্তরকে খবর দিয়েছি। বিদ্যালয়ে তিনজন সাফাইকর্মী রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষ, শৌচালয় ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। তবে স্কুলে গাছপালা রয়েছে। এর আগেও বিদ্যালয়ে সাপ এসেছিল। সেগুলিকে ধরাও হয়েছে। আমরা বন দপ্তরের সাহায্যও নিচ্ছি।
কয়েকদিন আগেই জেলারই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিক সাপের সন্ধান মেলে। তবে সেগুলি বিষধর ছিল না। এছাড়াও একটি উচ্চ বিদ্যালয়েও দেখা মিলেছিল সাপের।
জেলা তৃণমূল শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি জয়নেন্দ্র কুমার পাঠক বলেন, স্কুলগুলি যেন নিরাপদ থাকে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ করব। পাশাপাশি জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও যেন স্কুলগুলি সুরক্ষিত রাখতে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হয় তারও আবেদন করব।