সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করে নীরবেই ঘরে ফিরলেন শিলিগুড়ির কৃতী ক্রিকেটার মুন্না সরকার। শনিবার রাতে একা নীরবে বাড়িতে ফেরেন তিনি। ঋদ্ধিমান সাহা ও রিচা ঘোষের শহর শিলিগুড়ির আরএক কৃতী ক্রিকেটার মুন্না সরকার। তবে তাঁদের সঙ্গে মুন্নার পার্থক্য একটাই, মুন্না শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার। টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে ব্যাট ধরেছিলেন মুন্না।
গতবছর শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের টি-২০ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন মুন্না। এবছর শারজায় অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত সেমিফাইনালে পরাজিত হয় সুপার ওভারে। সেই প্রতিযোগিতাতেও ভারতের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার ছিলেন মুন্না। সম্প্রতি লন্ডনে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের প্রথম টি-২০ বাই ল্যাটারাল ইন্টারন্যাশনাল সিরিজে ভারতে চ্যাম্পিয়ন হয়। সেখানে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করে শনিবার রাতে শিলিগুড়ির বিনয় মোড়ের বাড়িতে ফেরেন মুন্না। তাঁকে স্বাগত জানাতে কেউ স্টেশনে যাননি। সোমবার পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে কেউ আসেননি।
এখন আর ক্রিকেট খেলতে চাইছেন না মুন্না সরকার। বাড়িতে মা ক্যান্সারের রোগী। বাবা সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। মুন্নার মা ছায়া সরকার বলেন, এবার লন্ডনে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার পর শুধু নীরবে বাড়ি ফেরাই নয়, কেউ কোনও টাকা দেয়নি ওকে। আর এই প্রতিযোগিতার জন্য টানা কয়েক মাস কলকাতায় ক্যাম্পে থাকতে হয়েছে। সেখানেও কোনও পয়সা পায়নি। এজন্য টেনিস বলের ক্রিকেট খেলে পয়সা উপার্জনও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই এবার বাড়ি ফেরে ছেলে বলছে, মা আর ক্রিকেট খেলে লাভ নেই। বাড়ির যা অবস্থা, তোমার চিকিৎসার খরচ সবকিছুর জন্যই আমার একটা কাজ দরকার। কাজ খুঁজতে হবে। কিন্তু কাজ খুঁজলেই কি পাওয়া যাবে! আক্ষেপের সঙ্গে ছায়াদেবী বলেন, অনেকের কাছে গিয়েছি। মুন্নাও দরবার করেছে, আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু এখনও কেউ মুন্নার ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়নি।অথচ ঋদ্ধিমান সাহা, রিচা ঘোষরা দেশকে জিতিয়ে শহরে ফিরলেই শুভেচ্ছা, অভ্যর্থনায় তাঁদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই আক্ষেপে ছায়াদেবীর।