• মেদিনীপুর জেলে বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ২৪ বছরের বিচারাধীন এক বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সংশোধনাগার এবং তমলুক থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। 


    পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা শেখ হোসেন আলি নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে হেনস্তা এবং অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ওই নাবালিকাকে প্রাইভেট টিউশন পড়াতেন শেখ হোসেন আলি। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর গত ২৭ জুন হিমাচল প্রদেশের সোলান জেলা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে তমলুক থানার পুলিস। এরপর সেখানকার আদালতে পেশ করে তাকে সাতদিনের ট্রানজিট রিমান্ডে এ রাজ্যে নিয়ে আসা হয়। ১ জুলাই তাঁকে তমলুক আদালতে পেশ করা হলে ১২ জুলাই পর্যন্ত তাঁর জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পরিবারের অভিযোগ, এরপর চার জুলাই পর্যন্ত ওই যুবককে তমলুক সাব কারেকশনাল হোমে রাখা হয়। এরপর হঠাৎই পরিবারকে কিছু না জানিয়ে ৫ জুলাই তাঁকে মেদিনীপুর সংশোধনাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেদিনই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিসের দাবি, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। কিন্তু মৃতের মায়ের অভিযোগ, খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর ছেলেকে। দেহ নিতে অস্বীকার করে পরিবার।


    বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলাটি উঠলে, রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইতিমধ্যেই দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফিও রয়েছে। পরিবারের তরফে দেহ না নেওয়ার কোনও কারণ নেই। মামলাকারীর আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নয়। কেন পরিবারকে না জানিয়ে তাঁকে ফোন থেকে সংশোধনাগারে স্থানান্তর করা হল। আদালতের কোনও অনুমতি ছাড়াই তাঁকে সংশোধনাগারের স্থানান্তর করা হয়েছে। 


    সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সিনহা নির্দেশে জানিয়েছেন, ওই যুবককে এ রাজ্যে আনার পর থেকে তাঁর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তমলুক থানা, তমলুক সাব কারেকশনাল হোম এবং মেদিনীপুর সংশোধনাগারের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পুলিসকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি। 
  • Link to this news (বর্তমান)