নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে পিছিয়ে ছিল রাজ্যের শাসক দল। সেই কেন্দ্রের উপ নির্বাচন। ফলে বিরাট ব্যবধান ঘোচানোই ঘাসফুল শিবিরের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, কাজটা অসম্ভব নয়। শাসক দলের আত্মবিশ্বাসের কারণ? এই জেলাতেই ১৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকা শান্তিপুরের উপনির্বাচনে প্রায় ৬৪ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্ট্রাটেজিতেও বদল এনেছে শাসক শিবির। ‘হাওয়া’ ঘোরাতে মেন্টরের ভূমিকায় কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এছাড়াও বিভিন্ন শাখা সংগঠনের পাশাপাশি বুথস্তরের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের খামতি দূর করার চেষ্টা করেছেন জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তবে সেই উদ্যোগ কতট ফলপ্রসূ হয়েছে, তা জানা যাবে ১৩ জুলাই।
ইতিপূর্বে জেলা সভাপতি হিসেবে অখণ্ড নদীয়ার দায়িত্ব সামলেছেন মহুয়া। তিনি বুথ ধরে ধরে কর্মিসভা করেছেন। তাতে তৃণমূল স্তরের সংগঠন আগের তুলনায় মজবুত হয়েছে। কিছুদিন আগেই বর্ষীয়ান নেতা শংকর সিংহ তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাতে লোকসভা ভোটের সময়ে বসে যাওয়া অনেক কর্মী নতুন উদ্যমে উপনির্বাচনের ময়দানে নেমে পড়েছেন। তৃণমূলের যোগ্য ও দাপুটে নেতাদের বেছে বেছে ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন মহুয়া-ঘনিষ্ঠ চাপড়ার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি জেবের শেখকে রানাঘাট দক্ষিণের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গুরুত্বপূর্ণ ছ’টি পঞ্চায়েতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এইভাবে আরও কয়েকজন নেতাকে সুনির্দিষ্টভাবে এলাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হেভিওয়েটদের নিয়ে এসে মিটিং করে চমক দেওয়ার বদলে রাজ্য নেতৃত্বকে সামনে রেখে পঞ্চায়েত ধরে জনসংযোগের কাজে লাগানো হয়েছে। স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন এবং নেতৃত্বের উপর দায়িত্ব বণ্টনেই আশার আলো দেখছে ঘাসফুল শিবির।
সোমবার ছিল উপ নির্বাচনের প্রচারের শেষদিন। এদিন জোরকদমে প্রচার করেন বিজেপি প্রার্থী মনোজকুমার বিশ্বাস ও সিপিএম প্রার্থী অরিন্দম বিশ্বাস। এদিন সকালে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অশান্তির বাতাবরণ তৈরির অভিযোগ তুলে গাংনাপুরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি নেতৃত্ব। তাতেই উঠেছে প্রশ্ন, বিজেপির কি আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছে? যদিও নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারলে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের চিহ্ন থাকবে না। মার্জিন লোকসভা ভোটের থেকেও বাড়বে। এদিন সকালে গ্রামীণ এলাকায় প্রচার করেন তৃণমূল প্রার্থী। বিকেলে মুকুটমণি অধিকারী হবিবপুরে বর্ণাঢ্য পদযাত্রায় যোগ দেন। পদযাত্রায় ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাসী রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বলেন, লোকসভা নির্বাচনের মুখে মুকুটমণি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কর্মীরা তাঁর হয়ে খেটেছিলেন। কিন্তু সমন্বয়ের অভাব কিছুটা ছিল। এবার সেটা নেই। তাই আমাদের জয় সময়ের অপেক্ষা।