• যানজট ও পথদুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা, বৈঠকে তোপ
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিবহণ দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে সোমবার  নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, রাস্তা আটকে থাকার জন্য যানজট হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ তুলে পরিবহণ দপ্তরের সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবহণ দপ্তরের কাজকর্ম খুব ‘ধীরে’ চলে। কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, ওই দপ্তরের কর্তাদের গাড়িতে নয়, সাইকেলে বা ১১ নম্বরে (অর্থাৎ হেঁটে) চলা উচিত। পরিহবণ দপ্তর গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না বলেই মন্তব্য করেন তিনি। 


    এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও পুলিসের মধ্যে সমন্বয় রেখেই রাস্তার সমস্যা সুরাহার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ট্রাম লাইন থাকার জন্য পথদুর্ঘটনা হচ্ছে। ট্রাম লাইনে স্কিড করছে টু হুইলার, তাতে মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে আরোহীদের। সম্প্রতি খিদিরপুর এলাকায় ট্রাম লাইনে এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। অথচ, ওই জায়গায় এখন আর ট্রাম চলে না। তাহলে ট্রাম লাইন থাকবে কেন? এই প্রশ্ন তুলে এর জন্য পরিবহণ দপ্তরকে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। 


    ট্রাম লাইন তোলার ব্যাপারে আদালতের নিষোধাজ্ঞার বিষয়টি জানান অফিসাররা। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন সবার আগে। তিনি জানতে চান, আদালতকে পুরো বিষয়টি বোঝানো হয়েছিল কি? ট্রাম লাইনের এই সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বৈঠকের নির্দেশ দেন মুখ্য‌মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাতে এবং বর্ষাকালে পথদুর্ঘটনা বাড়ে। পথদুর্ঘটনা কমাতে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণেরই  নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 


    রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এদিনের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রেলের উদাসীনতায় শহরের অনেক জায়গায় জল জমে থাকছে। তার জন্য ডেঙ্গু হলে আবার সমালোচনা হবে রাজ্যের! বিষয়টি নিয়ে মেট্রো এবং অন্যান্য রেলের আঞ্চলিক কর্তাদের সঙ্গে মুখ্যসচিবকে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যসচিব রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগেও বৈঠক করেছেন অবশ্য। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কী হয়েছে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য রাজ্য সরকার টাকা দিলেও তাতে কাজ কতটা হয়েছে, সেই ব্যাপারে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের জবাব চান মুখ্যমন্ত্রী। পুরমন্ত্রী বলেন, হাওড়ার নিকাশি সমস্যা মেটানোর জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। তখনই রেলের এলাকায় জল জমার কথা তোলেন পুরমন্ত্রী। তখন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, সমস্যা মেটাতে রেলের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। 


    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার উপর জোর দেওয়া হয়। জল জমার ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে বলা হয়। বিদ্যুতের পোস্টগুলি আরও মজবুত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে আগাম পরিকল্পনা করে বিপর্যয় পরিস্থিতির মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে রাজ্য সরকারও যে টাকা দেয়, বৈঠকে তারও উল্লেখ করেন মমতা।
  • Link to this news (বর্তমান)