নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সিঙ্গেল মাদারের হাত ধরে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি দিল পশ্চিম মেদিনীপুরের হোমের এক শিশু। বছর খানেক আগে শিশুটিকে খড়্গপুর স্টেশন থেকে উদ্ধার করে পুলিস। তারপরেই শিশুটির ঠাঁই হয় মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বালিকা ভবন হোমে। সোমবার সেই হোম থেকেই সুদূর বার্সেলোনায় পাড়ি দেয় শিশুটি। অনাথ শিশু পেল পরিবার। এনিয়ে মেদিনীপুরের হোম থেকে মোট ছ’জন শিশু পাড়ি দেয় বিদেশে।
সোমবার জেলাশাসক খুরশিদ আলির কাদেরির তত্ত্বাবধানে সব দিক খতিয়ে দেখে স্পেনের বাসিন্দা মেট্রিক্সেল রোসিচ গোমিনেজের হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে শিশুটির জন্ম শংসাপত্র থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ও অন্যান্য সমস্ত নথিপত্রও দিয়ে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সন্দীপ দাস, জয়ন্ত সিংহ, সমাজ কল্যাণ দপ্তরের সুরক্ষা আধিকারিক পীয়ূষ রথ প্রমুখ। জেলাশাসক বলেন, আমরা দত্তকের উপর দীর্ঘদিন ধরেই জোর দিয়ে আসছি। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬২ জন অনাথ শিশুকে নতুন পরিবার দিতে পেরেছি আমরা। শিশু সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরাও ভালো কাজ করছেন।
জেলার শিশু সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, বছরখানেক আগে খড়্গপুর রেল স্টেশন থেকে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিস। তারপর শিশুটিকে চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বালিকা ভবন হোম পাঠানো হয়। হোমের সুপার সুদীপ্তা চক্রবর্তী বলেন, শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ও নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারেনি। তারপর থেকে শিশুটি হোমেই বেড়ে উঠতে থাকে। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সন্দীপ দাস বলেন, গতবছর সেপ্টেম্বরে ভারতীয় শিশু দত্তকের জন্য ইচ্ছাপ্রকাশ করেন স্পেনের ওই মহিলা। সেইমতো এএফএফএর মাধ্যমে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যাবতীয় কাগজপত্র আপলোড করে রেজিস্ট্রার করেন কেন্দ্রের ‘সেন্ট্রাল অ্যাডাপশন রিসোর্স অথরিটি’র পোর্টালে। সেই সূত্র ধরেই মেদিনীপুরের হোমের এই শিশুটিকে দেখানো হয় তাঁকে। শিশুটিকে দেখা মাত্রই পছন্দ হয়ে যায় ওই মহিলার। এদিন সকালে এক জাপানি বন্ধুকে নিয়ে মেদিনীপুরের এসে পৌঁছন তিনি।
সোমবার শিশুটিকে প্রথম সশরীরে দেখেন ওই মহিলা। দেখা মাত্রই বুকে টেনে নেন। স্নেহের চুম্বনে ভরিয়ে দেন। শিশুটিও যেন মায়ের অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, মেট্রিক্সেল রোসিচ গোমিনেজ নামের ৪৭ বছরের ওই মহিলা স্পেনেই সরকারি চাকরি করেন। তবে বিয়ে, সংসার, সন্তান... এই সরলরেখায় জীবন বাঁধতে চাননি তিনি। তাহলে হঠাৎ কেন সন্তান দত্তক নেওয়ার কথা ভাবলেন? মহিলার উত্তর, যে শিশুর কেউ নেই, আমি সেরকম শিশুরই মা হতে চেয়েছিলাম। সেই কারণেই একজন অনাথকে দত্তক নেওয়া। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সন্তানই কেন? মহিলার সোজাসাপ্টা উত্তর, বিভিন্ন কাজে কিংবা ভ্রমণের নেশায় বিশ্বের অনেক দেশেই ঘুরেছি। ভারতেও এসেছি বহুবার। ভারতের মানুষ যেরকম আন্তরিক, একজন বিদেশিকেও আপন করে নিতে পারে, মানুষকে ভালোবাসতে পারে, তা বিশ্বের অন্য কোনও দেশে দেখিনি। সেই কারণেই ভারতীয় সন্তানকেই দত্তক নিতে চেয়েছিলাম।