সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের রাস্তাঘাট কিংবা খেলার মাঠে গোরুর অবাধ বিচরণ। গোরুর গোবরে নোংরা হচ্ছে পথঘাট। রাস্তার উপর গোরুর পাল ঘুরে বেড়ানোয় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে নবদ্বীপে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের। কিন্তু নির্বিকার গোরুর মালিকরা। শহরজুড়ে গোরুর লাগামছাড়া বিচরণে ক্ষুব্ধ নবদ্বীপের আপামর জনগণ। গোরুর মালিকদের ডেকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস পুরসভার।
প্রতিদিন নবদ্বীপের কপালিপাড়া, প্রতাপনগর হাসপাতাল রোড, চটির মাঠ, প্রাচীন মায়াপুর, পীরতলা, আগমেশ্বরী পাড়া, মহাপ্রভু পাড়া, গানতলা, পোড়ামাতলা, বাজার রোড, বউবাজার, রাধাবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গোরুগুলি ঘুরে বেড়ায়। গোবরের কারণে শুধু রাস্তা অপরিষ্কার নয়, মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার কবলেও পড়ছেন বহু মানুষ। গোবরে পা পিছলে অনেকেই পড়ে যাচ্ছেন। বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সের মানুষ মন্দির দর্শনে যান। কেউ বা গঙ্গাস্থানে যান। গোরু এবং গোবরের কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। রাস্তাজুড়ে গোরু দাঁড়িয়ে থাকায় তৈরি হচ্ছে যানজট। অনেক সময়ে গোরুগুলি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে নর্দমায় পড়ে যাচ্ছে। সেই গোরু উদ্ধার করতে ডাক পড়ছে দমকলের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক গোরুর মালিক আছেন যাঁরা গোরু পোষেন আর প্রাপ্য গোরুর দুধ দুইয়ে নেন, অথচ গোরুগুলিকে দিনরাত রাস্তায় ছেড়ে রাখেন। ওই গোরুর পাল নবদ্বীপের বিভিন্ন খেলার মাঠগুলিতে চড়ে বেড়ায়। মাঠগুলিতে গোবর পড়ে থাকে। প্রতিদিন মাঠের সেই সব গোবর পরিষ্কার করতে হয় খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের। এ ব্যাপারে গোরুর মালিকদের বললেও তারা কথা কানে তোলেন না বলে অভিযোগ ক্লাবকর্তাদের। নবদ্বীপ তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী অতসী দাস এবং রিয়া দাস জানায়, নবদ্বীপ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ষষ্ঠীতলা এবং বোসেস রোডের থেকে প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। আর এই গোরুর গোবরের জন্য খুবই অসুবিধা হয়। সাইকেল থেকে পড়ে যাই।
নেতাজী সুভাষ রোডের বাসিন্দা, ঝর্না মোদক বলেন, যাঁরা গোরু ছাগল পুষছেন তাঁদের উচিত পোষ্যকে বেঁধে রাখা। গোরু ছাগলদের পাশ দিতে গিয়ে এক শিক্ষক সাইকেল থেকে পড়ে যান। ওঁর হাত ভেঙে গেল।
নবদ্বীপ সরকার পাড়ার বাসিন্দা সুরণজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, গোরুর মালিকদের কাছে একটাই অনুরোধ, অন্ততপক্ষে গোরুগুলিকে বাড়িতে বেঁধে রেখে প্রতিপালন করুন। সময় মতো মাঠে নিয়ে যান। নবদ্বীপ থানার আইসি জলেশ্বর তেওয়ারি বলেন, গোরুর মালিকদের চিহ্নিত করা হবে। গবাদি পশুগুলোকে মালিকদের নিজেদের হেফাজতে রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, পুরসভার নজরে এটা এসেছে। নবদ্বীপবাসী সেইসব গোরুর মালিকদের কাছে পুরসভা আবেদন, জনসাধারণের অসুবিধা করে গোরু পালন করা চলবে না। গোরু পুষলে তা আপনাদের নিজস্ব জায়গায় পুষুন। মালিকরা সচেতন না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।