শিল্পায়ন: বাংলাকে কটাক্ষের জবাব জনগণই দিয়েছে লোকসভা ভোটে, দাবি শিল্পমন্ত্রীর
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিল্পায়ন নিয়ে প্রায়ই বাংলাকে কটাক্ষ করা হয়। ব্যাপারটা এরাজ্যের শাসক দলের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়। বাংলার শিল্পায়নের ভাবমূর্তি নিয়ে যে এখনও সমস্যা রয়ে গিয়েছে, তা মানলেন শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর বক্তব্য, শিল্পের ভাবমূর্তি নিয়ে আগেও তাঁদের কটাক্ষ শুনতে হয়েছে, এখনও হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে যে বিপুল জনসমর্থন তাঁরা পেয়েছেন, তাতেই রয়েছে সমস্ত কটাক্ষের জবাব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করলেও, শশী পাঁজার দাবি, তিনি রাজ্যকে কতটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, এই জনসমর্থনই তার প্রমাণ।
ইন্ডিয়ান প্লাস্টিক ফেডারেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এদিন শশী পাঁজা বলেন, বৃহৎ শিল্পের জন্য এই মুহূর্তে রাজ্যের কোনও আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প বা ইনসেন্টিভ পলিসি চালু নেই। কিন্তু তা শিল্পায়নে কোনও অন্তরায় নয় বলে দাবি তাঁর। শিল্পমন্ত্রীর দাবি, অন্য রাজ্যের অনেক শিল্পপতিই তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি কোনও সমস্যাই নয়। এখানে জমি, জল বিদ্যুৎ প্রভৃতি পরিকাঠামোই শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে, দাবি তাঁর। তবে এমএসএমই শিল্পের জন্য ‘বাংলাশ্রী’ প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা মিলছে, জানিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, ব্যবসা করা রাজ্য সরকারের কাজ নয়। ফলে যাঁরা এখানে ব্যবসা করবেন, তাঁদের সবরকম সাহায্য করতে রাজি সরকার। কিন্তু ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে না সরকার। রাজ্য সরকারের হাতে থাকা বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমিতে ফের শিল্প গড়ার কথা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই কথা এদিনও উল্লেখ করেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী। তারই সঙ্গে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরগুলির পাশে যে চালু কারখানাগুলি আছে, সেখানেও কতটা জমি উদ্ধৃত্ত আছে, তারও হিসেব কষছে রাজ্য সরকার। বড় শিল্প, এমএসএমই, রাজ্যের হাতে থাকা বিভিন্ন শিল্প পার্কে থাকা জমিগুলিকে একত্র করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০০ একর জমি তাঁদের হাতে এসেছে। এরই সঙ্গে তিনি জানান, প্লাস্টিক শিল্পের প্রসারে তাঁরা পলি পার্ক আনছেন। ওই পলি পার্ক তৈরি হবে হওড়ার উলুবেড়িয়ায়।