রাজ্যপালকে ছাড়াও বিধানসভা চলতে পারে, মোক্ষম জবাব স্পিকার বিমানের
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজভবনের সঙ্গে বিধানসভার ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ অব্যাহত। অন্তত বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে তা আরও একবার স্পষ্ট। ফলে আগামী দিনে রাজভবনের সঙ্গে বিধানসভার সুসম্পর্ক কবে তৈরি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। শুক্রবার স্পিকার স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যপাল ছাড়াও বিধানসভা চলতে পারে।
দুই বিধায়কের শপথগ্রহণ নিয়ে একমাস ধরে চলা জটিলতার সাক্ষী থেকেছে তামাম বাংলা। বিধায়কদের শপথ কোথায় হবে, কে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন, তা নিয়ে রাজভবন ও বিধানসভার মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল। শেষমেশ রাজ্যপাল যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ‘পুরোপুরিভাবে’ গ্রহণ না-করে বিধানসভা নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে। তার পরেই দেখা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে বিধানসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল।
এই আবহে এবার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিমানবাবু। সোমবার ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মদিন। বিধানসভায় ওই সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের পর বিমানবাবু বলেন, স্পিকারকে সরাতে পারেন একমাত্র বিধানসভার সদস্যরা, রাজ্যপাল নন। বিধানসভা হেল্পলেস নয়, রাজ্যপাল ছাড়াই চলতে পারে। বিধানসভা তার নিজের অধিকার বলে সিদ্ধান্ত নেবে। একইসঙ্গে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ইদানীং যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, তা তুলে ধরেই বোসকে খোঁচা দিয়েছেন বিমানবাবু। তিনি বলেছেন, রাজ্যপালের সম্পর্কে অনেক কথাই তো বাইরে আলোচনা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে পুলিস তদন্তও করছে।
এদিন জ্যোতিবাবুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রশ্ন ওঠে, কে সবচেয়ে সফল মুখ্যমন্ত্রী? ওই প্রসঙ্গে বিমানবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মধ্যে কোনও তুলনাই হয় না। বাম আমলে জ্যোতি বসু দক্ষ প্রশাসক ছিলেন। সিপিএম আগে পার্টিকে দেখত। ওদের কাছে আগে পার্টি, তারপর মানুষ, তারপরে উন্নয়ন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতটাই মানবিক যে, তাঁর কাছে সবার আগে মানুষ, তারপর বাকি সব।
উল্লেখ্য, জ্যোতিবাবুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের কোনও বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন না।