কলেজের শূন্য আসন পূরণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ মুহূর্তে বহু ছাত্র-ছাত্রী অ্যাডমিশন নিয়েও ড্রপ আউট হওয়ায় গত বছর ৫৩ শতাংশ আসন খালি ছিল কলেজগুলিতে। এমনই জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক। কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি শুরু হওয়ায় এই দৈন্য যাতে কাটে, তার জন্য এবার উঠেপড়ে লেগেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। আধিকারিকদের আশা, এবারের ছবিটি আগেরবারের তুলনায় ভালো হবে। তবে এর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে তারা।
এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, সিট আপগ্রেডেশনের সুযোগ নেওয়ার জন্য প্রথম ধাপে টাকা জমা দিয়ে অ্যাডমিশন নিতেই হবে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে। সিট আপগ্রেডেশন মানে হল, প্রথমে পছন্দের কলেজ না পেয়ে পরবর্তীতে সেখানে ফাঁকা আসন থাকলে, সেখানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া। যাঁরা কোনও কলেজে অ্যাডমিশন নেননি, তাঁরা এই সুযোগ পাবেন না। আবার অ্যাডমিশন সম্পন্ন করার জন্য কলেজে সশরীরে উপস্থিত হতেই হবে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে। সেটা তিনি না করলে তাঁর অ্যাডমিশন বাতিল হয়ে যাবে। এর প্রথম কারণ হল, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ছাত্রের মার্কশিট, শংসাপত্র প্রভৃতি ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। আর দ্বিতীয়ত, এর ফলে কৃত্রিমভাবে আসন পূর্ণ দেখানোর সম্ভাবনাও কমে। অনেকেই টাকা জমা দেওয়ার পরও অন্যত্র ভর্তি হয়ে যান। আগের কলেজে আর হাজিরই হন না। শেষ মুহূর্তে কলেজগুলি আর এই আসন পূরণ করতে পারে না। এবার সেই সম্ভাবনা কমাতে চাইছে দপ্তর।
আট আগস্ট ফের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে। সেই সময় একেবারে নতুন ছাত্র-ছাত্রীরাও আবেদন করতে পারবেন। তাঁরা এই দফাতেও সিট আপগ্রেডেশনের সুযোগ পাবেন। তবে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন প্রথম ধাপে অ্যাডমিশন নিয়ে থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা। এভাবেই প্রথম দফায় বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তি নিশ্চিত করতে চাইছে দপ্তর। এর পাশাপাশি, দু’টি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হলে হেল্প ডেস্ক নম্বরগুলিতেও ফোন করতে পারবেন ছাত্র-ছাত্রীরা। সেগুলি তাঁদের ড্যাশবোর্ডেও দেখানো হবে।
এ বছরও বহু সংখ্যক আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মোট আবেদন জমা পড়েছে ৩৫ লক্ষ ৭২ হাজার ২১০টি। সাতটি কলেজের সাতটি কোর্সে কোনও আবেদনই জমা পড়েনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, দমদম মতিঝিল কলেজ। সেখানে চার বছরের অর্থনীতি কোর্সে একজনও আবেদন করেননি। এছাড়া বিভিন্ন কলেজের হিন্দি, উর্দু কোর্সেও আবেদনের সংখ্যা শূন্য। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনসপেক্টর অব কলেজেস (আইসি) এবং কলেজ অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলবে দপ্তর। সংরক্ষিত আসনগুলি ডি রিজার্ভেশনের ভার কলেজগুলির থেকে নিয়ে নিজের কাছেই রাখতে চাইছে শিক্ষা দপ্তর। অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে উচ্চ শিক্ষাদপ্তরই সরাসরি যোগাযোগ করবে। সংরক্ষিত আসনগুলিই সাধারণত ভর্তি হতে সময় লাগে বা অনেক সময় ভর্তি হয় না। নিয়মানুযায়ী, কলেজগুলিই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডি রিজার্ভ করার আবেদন জানায়। এই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়াটি এবার সরল হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গে কম চাহিদার বিষয়গুলিতে আসন কমানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এর পরের ধাপে কলেজগুলিতে শিক্ষকদের সমবণ্টনের পথেও হাঁটবে দপ্তর। সবশেষের হাতিয়ার হল, যে কোনও কোর্সের স্নাতকস্তরের সমস্ত ভর্তি একটি পোর্টালের অধীনে নিয়ে আসা। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিএডে ভর্তির কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াও চলতে পারে একই পোর্টাল থেকে।