দুঃস্থদের অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারকের কাছে মোটা টাকায় ভাড়া খাটাত ধৃতরা
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিলেই মিলবে মোটা মাসোহারা। এই টোপেই গরিব মানুষের অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে সাইবার প্রতারকদের বিপুল টাকায় ভাড়া দিত নিউ বারাকপুরে ধৃত দুই সশস্ত্র দুষ্কৃতী। এমনকী, নিজেদের কাছে বন্দুক রেখেছিল সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে। বহু ক্ষেত্রে কাজ হাসিল করতে নিজেদেরকে পুলিসের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মী হিসেবেও পরিচয় দিত। ধৃতদের জেরা করে নিত্যনতুন তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিস জানিয়েছে, এই চক্রের বাকি পান্ডাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিউ বারাকপুর থানার পুলিস সাদ্দাম হোসেন ও শেখ সাহাবুল নামের দুই সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছিল। সাদ্দামের বাড়ি খড়দহের পি কে বিশ্বাস রোডে। সাহাবুল হাওড়ায় বাগনান এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিস তিনটি পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড গুলি, নয়টি মোবাইল ফোন, অনেকগুলি চেক বই, ক্রেডিট ও ডেবিট, শ’দুয়েক ফোন নম্বর এবং প্রচুর নথি পেয়েছিল। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই কার্যত অপরাধের প্যান্ডোরা বাক্স খুলে গিয়েছে। পুলিস জেনেছে, সাহাবুলের ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পুরনো রেকর্ড রয়েছে। এই গ্যাংয়ে রয়েছে আরও ছয় থেকে সাতজন সদস্য। তারা নিয়মিত বদল করত বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা। এর আগে এয়ারপোর্ট, হাওড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেরা বদল করেছে। একটি ডেরায় থিতু হতে না-হতেই নতুন ডেরার খোঁজ শুরু করত। সর্বোচ্চ তিনমাস যেকোনও জায়গায় থাকত।
যেকোনও জায়গায় গিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের (সিএসপি) কর্মী এবং ছোট মোবাইল ফোনের দোকানদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াত। এরপর নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার সমস্যার কথা জানিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্টে কয়েক হাজার টাকা পাঠিয়ে ক্যাশ টাকা নিত। এরপর ১০ থেকে ১২ শতাংশ টাকা কমিশন দিয়ে এইভাবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে ক্যাশ টাকা নিত। নিমতা ও নিউ বারাকপুরের এমন তিনজনকে পুলিস গ্রেপ্তারও করেছে।
জেরায় পুলিস জেনেছে, ধৃতরা ওই সিএসপি ও মোবাইল ফোনের দোকানদারদের মাধ্যমে তারা এলাকার গরিব মানুষজন সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করত। এরপর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের লেনদেন না-হওয়া অ্যাকাউন্ট ভাড়ায় নেওয়ার প্রস্তাব দিত। মাসিক চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ডিল ফাইনাল হওয়ার পর তারা ওই অ্যাকাউন্ট বিপুল টাকায় সাইবার প্রতারকদের ভাড়ায় দিত। কোনও ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে বেশি দরাদরি করলে তাঁকে নিজেদের ঘরে ডেকে নিত। তাদের পাশে বন্দুক রেখে ছবি তুলে নিত। এরপর পুলিস পরিচয় দিয়ে যেকোনও মুহূর্তে অস্ত্র আইনে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাত। কিন্তু নিউ বারাকপুর থানার ওসি সুমিতকুমার বৈদ্য সোর্স মারফত খবর পেয়ে তাদের পাকড়াও করে।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা আর কোন কোন জায়গায় এমন জালিয়াতি চক্র ফেঁদেছিল তার খোঁজ তারা নিচ্ছে। এই চক্রের পান্ডাদের সঙ্গে কোনও কোন সাইবার প্রতারকের যোগ আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।