• সাগর দত্তের নয়া ক্যান্সার হাসপাতাল, রেডিয়েশন যন্ত্রই নেই, আছেন শুধু সেফটি অফিসার 
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন। ঠিক হয়েছিল, সেই বছর ডিসেম্বরের মধ্যে এখানে ক্যান্সারের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কী! তারপর প্রায় দেড় বছর কাটলেও স্বাস্থ্যদপ্তরের এই টার্শিয়ারি ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার (টিসিসি) পুরোপুরি চালুই হল না এখনও। এনিয়ে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম একাধিকবার বৈঠক ডেকেছেন। প্রয়োজনীয় কর্মী, চিকিৎসক, রেডিয়েশন সেফটি অফিসার নিয়োগও হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচে তৈরি করা হয়েছে পাঁচতলা বাড়ি (তিনটি তল মাটির উপর, দু’টি মাটির নীচে)। কিন্তু পরিষেবা মিলছে নামমাত্র। এখনও চালু হয়নি ইনডোর। শুরু হয়নি ‘রে’ দেওয়ার কাজ। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারকে বাগে আনার আধুনিক যন্ত্রপাতিও আসেনি। তাই রেফার চলছে অবিরাম। অথচ এই বাড়ির আরও দু’টি তল বাড়ানো সহ ক্যান্সার সংক্রান্ত সমস্ত ধরনের অপারেশন এখানে করবার পরিকল্পনা রয়েছে। সে সব আদৌ বাস্তবায়িত হবে তো? উঠছে প্রশ্ন।   


    স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, আজব সব কাণ্ড এবং দেদার অপচয় চলছে টিসিসি-তে। যেমন, স্বাস্থ্যদপ্তর রেডিয়েশন সেফটি অফিসার নিয়োগ করা হলেও এখানে বর্তমানে রেডিয়েশন দেওয়ার কোনও পরিকাঠামোই নেই। চালু হয়নি রেডিওথেরাপি ইউনিট। বেসমেন্টের দোতলায় রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য কয়েক কোটি টাকা দামের লিনিয়র অ্যাক্সিলারেটর বা লাইন্যাক মেশিন বসানোর কথা। তার জন্য পরিকাঠামো তৈরির কাজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যন্ত্রটি আসেনি এখনও। ব্র্যা঩কিথেরাপির মতো আধুনিক মেশিনও নেই। এসব কারণে ইনডোর পরিষেবা চালু করা যায়নি। এমনকী, কাজ না থাকায় তিতিবিরক্ত হয়ে বদলির জন্য দরবার করেছেন এখানকার রেডিয়েশন সেফটি অফিসার। 


    হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখন একতলায় আউটডোর চলছে। আর দোতলার ৩০টি বেডে চলছে কেমোথেরাপি ইউনিট। এক সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ‘ক্যান্সার হাসপাতালে তিনভাগের মধ্যে একভাগ রোগীর কেমোথেরাপির দরকার পড়ে। একভাগের দরকার পড়ে রেডিওথেরাপি। বাকি একভাগের রে ও কেমো—দু’ধরনের চিকিৎসারই প্রয়োজন থাকে।’ চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় রেডিওথেরাপি, রে ও কেমোর রোগীদের রেফার করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থা কেন, জানতে ফোন করা হয়েছিল সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পার্থপ্রতিম প্রধানকে। তিনি ফোন ধরেননি। সুপার তথা এমএসভিপি ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি সমস্যাগুলি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘শীঘ্রই লাইন্যাক, ব্র্যাকিথেরাপি সহ জরুরি যন্ত্রপাতিগুলি চলে আসবে। তখন পর্যাপ্ত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)