‘ক্রাইমেই ট্যালেন্ট, তাই পেশা বদল’, অকপট দাবি হানিট্র্যাপ কাণ্ডে ধৃত বাবুসোনার
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল! পুলিসের নজর এড়াতে অপরাধের ধরন বদলেছিলেন রেনিয়া, বাঁশদ্রোণী এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী বাবুসোনা। মোটর সাইকেল চোর থেকে এখন তিনি হানিট্র্যাপের মূলচক্রী। বাঘাযতীনের এক যুবককে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে বাবুসোনা, তাঁর স্ত্রী ও আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পাটুলি থানার পুলিস। এক পলকে তাঁকে দেখেই চিনতে পারেন তদন্তকারীরা। কেন ‘ধান্দা’ বদল? পুলিসের এই প্রশ্নের জবাবে বাবুসোনা জানান, ‘আপনারা লেখাপড়া করেছেন, তাই আপনারা বড় পুলিস অফিসার, আমার এই ক্রাইমেই ট্যালেন্ট, তাই আমি এটাই করি।’
২০১৮ সাল থেকে বাইক চালকদের রীতিমতো ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন বাবুসোনা। বাঁশদ্রোণী, শহিদ কলোনি, নেতাজিনগর, পাটুলি, যাদবপুর, টালিগঞ্জ চত্বরে একের পর এক বাইক চুরির অভিযোগ ওঠে তাঁর নামে। তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের এমটিএস বা মোটর থেফট সেকশন। দেখা যায়, ওই এলাকা থেকে বাইক, স্কুটার চুরি হওয়ার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্ত বাবুসোনা। কলকাতা পুলিসের হিসেব বলছে, এখনও পর্যন্ত ৮ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। কিন্তু, বারবারই বেরিয়ে এসে তিনি ফের চুরির কাজে লেগে পড়েন। পুলিসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এমনও ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, বাইক চুরির ঘটনায় জামিন পাওয়ার পরের দিনই ফের গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত।
লালবাজারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় বছরখানেক ধরে বাইক চুরির ক্ষেত্রে সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি বাবুসোনার। এরপরেই গত রবিবার গল্ফগ্রিন থানা এলাকায় একটি হানিট্র্যাপের ঘটনা ঘটে। তারই তদন্তে নেমে পুলিস দেখে মোটরবাইক চুরি থেকে ‘অবসর’ নিয়েছেন বাবুসোনা। এখন আর তিনি একা নন। বউ অনিশা দাসকে ‘টোপ’ করে হানিট্র্যাপে মত্ত হয়ে উঠেছেন রেনিয়া অঞ্চলের কুখ্যাত দুষ্কৃতী। পুলিস সূত্র জানিয়েছে, ‘মিম্পি’ নামে একাধিক ডেটিং অ্যাপে প্রোফাইল রয়েছে অনিশার। সেখানে খোলা-মেলা জামাকাপড়ে আকৃষ্ট করা হচ্ছে কমবয়সি ছেলেদের। সেখানে নানা প্রলোভনে ডাকা হচ্ছে যুবকদের। তাঁদের গল্ফগ্রিনের একটি ফ্ল্যাটে যেতে বলা হচ্ছে। সেই ফ্ল্যাটটি বাবুসোনার সহযোগী সৈকত পালের। গল্ফগ্রিনে তাঁর ফ্ল্যাটে এনেই আটকে রেখে যুবকদের থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হতো।
বাবুসোনা ও তাঁর স্ত্রী অনিশা পুলিসকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এর আগে আরও তিনটি একই ধরনেই হানিট্র্যাপের কৌশলে তিন যুবকের থেকে টাকা আদায় করেছেন তাঁরা। সেগুলিতে কোনও কেস হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অনিশার ক’টি ভুয়ো নামে প্রোফাইল রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র