• মানিকতলা: ‘ও তো ফুটবলে ব্যর্থ প্রশাসক’, প্রচারের শেষ লগ্নে কল্যাণকে আক্রমণ তৃণমূলের
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মানিকতলা উপ নির্বাচনের প্রচার-পর্বের শেষ দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে থাকল। কটাক্ষ-পাল্টা কটাক্ষের পালা চলল। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তাঁকে তুলোধনা করতে সোমবার মানিকতলার  তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুপ্তি পাণ্ডের প্রচারে একাধিক বিশিষ্ট ফুটবলারদের নিয়ে এসেছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সেখানেই কল্যাণকে ফুটবল ফেডারেশনের ব্যর্থ প্রশাসক হিসেবে কটাক্ষ করা হয়। যার পাল্টা হিসেবে বিজেপি প্রার্থীও জানিয়েছেন, তিনি ব্যর্থ কি না, তা ভবিষ্যত বলবে।


    এদিন অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে উল্টোডাঙা মোড় থেকে মানিকতলার স্টার থিয়েটার পর্যন্ত প্রয়াত সাধন পান্ডের সহধর্মিনী সুপ্তিদেবীর সমর্থনে রোড শো হয়। সেখানে গোটা বিধানসভা এলাকায় সব কাউন্সিলাররা উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের তরফে বলা হয়, কল্যাণ ফুটবলের ব্যর্থ প্রশাসক। তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি থাকাকালীন ভারত ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তৃণমূলের দাবি, সেই প্রতিবাদেই এদিন সকল ফুটবলাররা মিছিলে সামিল হয়েছিলেন। পাল্টা কল্যান চৌবে জানিয়েছেন, এগুলি কুরুচিকর মন্তব্য। ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে তিনি কী করেছেন, তা সময় বলবে। তাঁর সংযোজন, তৃণমূল ভোটে রিগিং করে। গত ২০২১ সালের নির্বাচনে ভোট কীভাবে লুঠ হয়েছিল, আমি সেটাই সকলের কাছে তুলে ধরার জন্য কোর্টে মামলা করেছিলাম। অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পেরেছি। এবারের উপ নির্বাচনে সঠিকভাবে ভোট হলে, বিজেপির ফলাফল ভালো হবে বলেও দাবি করেন ভারতীয় ফুটবল দলের এই প্রাক্তন অধিনায়ক। অন্যদিকে, প্রচারের শেষ দিন ৩২ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করেন সিপিএম প্রার্থী রাজীব মজুমদার। গোটা নির্বাচনী প্রচারে মূলত পায়ে হেঁটেই প্রচার করেছেন রাজীব। নির্বাচনী প্রচার শেষে প্রার্থীর বক্তব্য, ‘প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, স্বল্প সময়ে কীভাবে পৌঁছব! কিন্তু সমস্ত এলাকা পরিক্রমা করেছি। মানুষের কাছে গিয়েছি। তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন। ভোট দেবেন বলেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। বিশেষত বস্তি অঞ্চলগুলোয় আমরা লড়াইয়ে আছি।’


    দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর ভোট হচ্ছে মানিকতলায়। গত বিধানসভা নির্বাচন হোক কিংবা সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটের নিরিখেও পূর্ব কলকাতার এই আসনে এগিয়ে ঘাসফুল শিবির। ফলে, খানিকটা স্বস্তিতে তাঁরা। তবুও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারে খামতি রাখেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। গোটা মানিকতলা জুড়ে সুপ্তি পান্ডের প্রচারও ছিল নজরকাড়া।‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’—এই ঢঙে গোটা উল্টোডাঙা, কাঁকুড়গাছি, বেলেঘাটা জুড়ে পড়েছে ‘মানিকতলা তাঁর বউদিকে চায়’ পোস্টার। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে মায়ের গোটা প্রচার-পর্বে এড়িয়েই গিয়েছেন সাধন-কন্যা শ্রেয়া। একমাত্র মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন দেখা গিয়েছিল তাঁকে। অন্যদিকে, বিতর্ক রয়েছে বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরেও। পদ্মপার্টির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কল্যাণ চৌবের নামের পাশে ‘ভট্টাচার্য’ পদবিও দেওয়া ছিল। কিন্তু, গোটা মানিকতলা জুড়ে যত পোস্টার পড়েছে, তাতে কোথাও সেই ‘ভট্টাচার্য’ পদবির উল্লেখ নেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)