নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাত পোহালেই হাইভোল্টেজ সীমান্তবর্তী বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচন। আর তার আগে কার্যত নিদ্রাহীন তৃণমূল। সোমবার প্রচার শেষ হলেও, বিরোধীদের ‘সিঁদ কাটা’ আটকাতে কার্যত রাতপাহারা দিল তৃণমূল। বাইরের কেউ পাড়ায় আসছে কি না, বা এলেও সঙ্গে কিছু রয়েছে কি না, তার নজরদারি নিয়ে চূড়ান্ত সতর্ক জোড়াফুল শিবির। নতুন প্রজন্মের প্রার্থীকে সামনে রেখে বাগদা বিধানসভা এবার ছিনিয়ে নিতে মরিয়া বাংলার শাসক দল। কেন্দ্র দখলে রাখতে পিছিয়ে নেই পদ্মপার্টিও।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর প্রায় একমাসের নির্বাচনী প্রচার শেষ হল সোমবার। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করেই সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই প্রচারে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বাগদা বিধানসভা এবার তৃণমূলের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা থেকে জয়ী হন বিজেপির বিশ্বজিৎ দাস। পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে তিনি বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াফুল প্রার্থী হন। তার আগে অবশ্য বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বিশ্বজিৎ। আর সে কারণেই এবার উপ নির্বাচন। ২০২১’এর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। ভোটের আগে নাগরিকত্বের তাস খেলে সেবার বাজিমাত করে বিজেপি। নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায় সহ উদ্বাস্তু মানুষ ঢেলে ভোট দেন বিজেপিকে। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি গিয়েছে বদলে। সিএএ নিয়ে মতুয়া সহ উদ্বাস্তুরা দ্বিধাগ্রস্ত। আর এই অস্থিরতার আবহে স্বস্তিতে নেই কোনও শিবির। বাগদা উপ নির্বাচনে সিএএ নিয়ে তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায়নি বিজেপি নেতাদের। আর রাজ্যের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রচারে ঝড় তুলেছে তৃণমূল। তার উপর নিজেদের ক্রমবর্ধমান কোন্দল, কিছুটা হলেও মাথাব্যাথার কারণ হয়েছে বিজেপি নেতাদের। সেই কোন্দল এবার প্রকাশ্যে এসেছে।
সোমবার প্রচার শেষ হতেই বিভিন্ন এলাকায় বুথের বাইরে ক্যাম্প তৈরি ও দলের পতাকা টাঙানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন দুই শিবিরের কর্মীরা। এরপর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় রাত পাহারা। মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকাকে টার্গেট করেছে তৃণমূল। যাতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্য দলের কেউ প্রভাব খাটাতে না পারে। এ নিয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন,আমাদের কর্মীরা সদা সজাগ রয়েছেন। বিজেপির হাতে অনেক কালো টাকা। তা দিয়েই ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে ওরা। সেই রকম হলে নিশ্চিত, কর্মীরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়বেন। এদিকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, রুটিন যে সমস্ত এলাকায় বিজেপি টাকা ছড়াতে পারে, সেখানে কর্মীদের পাহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এলাকায় অপরিচিত মানুষ দেখলেই পুলিসকে জানাতে বলা হয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার আঁচ পেলে প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় নেতাদের একটি টিম এলাকায় ঘুরবে ও টহল দেবে। এদিকে বিজেপির দাবি, কর্মীদেরও পাড়ায় পাড়ায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পদ্মফুল যে মানুষের মনে রয়েছে, তা ফের প্রমাণ হয়ে যাবে।