দম্পতির হানিট্র্যাপে যুবক, গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটে আটকে মুক্তিপণ দাবি
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাসখানেক আগে অনলাইন ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হয়েছিল দু’জনের। ক’দিনের আলাপেই যুবকের সঙ্গে দেখা করার জন্য ‘আকুল’ হয়ে ওঠেন তরুণী। তাঁর ‘আহ্বানে’ সাড়া দিতে গিয়েই বাধল বিপত্তি! দম্পতির পাতা হানিট্র্যাপে পড়ে গেলেন বাঘাযতীনের যুবক। গল্ফগ্রিনের একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে কার্যত পণবন্দি করে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তবে পুলিসের তৎপরতায় পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। টাকা হস্তান্তরের সময় যুবকের বাড়ির লোক সেজে দু’জনকে পাকড়াও করে পুলিস। তাদের জেরা করে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সেই তরুণীও, যার সঙ্গে ‘ডেটিং’ করতে এসেছিলেন ওই যুবক। এরপর ফ্ল্যাট থেকে ‘বন্দি’ যুবককেও উদ্ধার করা হয়।
পুলিস সূত্রে খবর, একটি ডেটিং অ্যাপে মিম্পি দাস নামে এক তরুণীর সঙ্গে গত একমাস ধরে চ্যাট করতেন সৃঞ্জয় সরকার। তরুণীর ভাল নাম অনীশা দাস। রবিবার দু’জনের দেখা করার কথা ছিল। সেই মতো সৃঞ্জয়কে গল্ফগ্রিন থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আসতে বলে অনীশা। দুপুর ২টো নাগাদ সেখানে যান যুবক। বাইরে বাইক রেখে ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিল পিটার ডি ক্রুজ নামে আরও একজন। সৃঞ্জয় ঘরে ঢুকতেই তাঁর হাত-মুখ বেঁধে ফেলে অনীশা ও পিটার। শুরু হয় মারধর। জানিয়ে দেওয়া হয়, ১ লক্ষ টাকা না পেলে তাঁকে ছাড়া হবে না। প্রথমে তারা সৃঞ্জয়ের মোবাইল থেকে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা ‘ট্রান্সফার’-এর চেষ্টা করে। কিন্তু অ্যাকাউন্টে খুব বেশি টাকা না থাকায় বাড়ির লোককে ফোন করে টাকা আনতে বলা হয়। সেই মতো সৃঞ্জয় মাকে ফোন করেন। ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে জানতে পেরে পাটুলি থানায় ছুটে যান মা রীতা সরকার। সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয় পুলিস। ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা হয়। অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরতে সৃঞ্জয়ের পরিবারের সদস্য সেজে টাকা দিতে যায় পুলিসই। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস রোডে একটি মিষ্টির দোকানের সামনে টাকা নিয়ে আসতে বলে অভিযুক্তরা। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল সাদা পোশাকের পুলিস। সৃঞ্জয়ের বাইক নিয়েই টাকা আনতে আসে দুই যুবক। তাদের সেখানেই গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, বাবুসোনা মণ্ডল ও তার সহযোগী সৈকত পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
ধৃতদের নিয়ে যাওয়া হয় পাটুলি থানায়। সেখানে জেরায় সৈকত জানায়, গল্ফগ্রিনের তার নিজের ফ্ল্যাটে সৃঞ্জয়কে আটকে রাখা হয়েছে। তখনই সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হানা দেয় পুলিস। ফ্ল্যাট থেকে পাকড়াও করা হয় অনীশা ও তার সহযোগী পিটারকে। পরে পুলিস জানায়, ধৃত বাবুসোনা অনীশার স্বামী। তারাই এই হানিট্র্যাপের মূল চক্রী। তাদের প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করত সৈকত। ওই ফ্ল্যাটে আগেও এভাবে অনেক যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যাবতীয় ঘটনার তদন্তে নেমেছে পাটুলি থানা। সোমবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।