• কেমন আছে গাছ? হেলথ অডিট শুরু কলকাতা পুরসভার
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৮ জুন গল্ফগ্রিনের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক রিকশ চালকের। তার দিন কয়েকের মধ্যেই অন্য একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে হরিশ মুখার্জি রোডে। সেই ঘটনাতেও আহত হন এক ব্যক্তি। ক্যামাক স্ট্রিট এবং শরৎ বোস রোডেও বড় গাছ উপড়ে পড়ে বিপত্তি ঘটেছিল কিছুদিন আগে। ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় চিন্তিত কলকাতা পুরসভা। এবার তারা শহরের সব ওয়ার্ডে থাকা গাছের হেলথ অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডে সেই কাজ ইতিমধ্যেই হয়েছে।


    পুরসভার উদ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রেমাল ঝড়ে শহরে প্রায় পাঁচশো গাছ ভেঙে পড়ে। তারপর গত দেড় মাসে প্রায় ৩৫টি গাছ ভেঙে বা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বৃষ্টি হোক বা না হোক মাটি আলগা হয়ে বড় আকারের গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা বেশ দুশ্চিন্তার বলে মনে করছেন বিভাগীয় আধিকারিকরা। পূর্ণবয়স্ক গাছ কেন গোড়া থেকে উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে? কারণ খুঁজতে ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথমে পরিদর্শনে যান পুরসভার উদ্ভিদবিদদের একটি দল। তাতে ছিলেন অভীক মুখোপাধ্যায়, সর্বাণী রায় ও শুভপ্রসাদ ভট্টাচার্য নামে তিন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা ওয়ার্ডে থাকা গাছগুলি খতিয়ে দেখেন। স্বাস্থ্যপরীক্ষা করেন। তারপর সিদ্ধান্তে আসেন, অন্তত ১০০টি গাছের ট্রিমিং করতে হবে অর্থাৎ ছাঁটতে হবে। পাশাপাশি পাঁচটি বড় গাছ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। সেগুলি পুরোপুরি কেটে ফেলার দরকার। গাছগুলির গোড়ার দিকের মাটি আলগা হয়ে রয়েছে। ফলে যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে। বড় বিপদ ঘটতে পারে। দলটি এই রিপোর্ট জমা করে। নিয়ম অনুযায়ী, শহরে কোনও গাছ কাটতে হলে বনদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। সরকারি জায়গায় থাকা গাছ বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাছও অনুমতি নিয়ে কাটতে হয়। পুরসভা বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাছগুলি কাটবে। পুরসভার উদ্যান বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, ‘একটি হয়েছে।  অনেক ওয়ার্ডেই এই স্টাডি হবে। শহরে সর্বত্রই গাছের হেলথ-অডিট করাব আমরা।’ পুর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়ার মতো বহু গাছ রয়েছে। এই গাছের মূল মাটির বেশি গভীরে প্রবেশ করে না। ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে ভেঙে পড়া বা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। তবে এখন ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটছে। তা উদ্বেগের। শহরের বড়-মাঝারি গাছগুলির স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করানো হলে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। প্রয়োজনে গাছ কাটাও পড়তে পারে। তা হলে দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি হবে না। সে জায়গায় দেবদারু, জারুল কিংবা অন্য কোনও ফলের গাছ লাগানো হবে। যে ধরনের গাছের শিকড় মাটি শক্ত করে ধরে রাখতে পারে। ফলে সেগুলি পড়ে যাবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)