নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গোটা রাজ্যে পুরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া এবার কেন্দ্রীয়ভাবে হওয়ার কথা। এমনটাই ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু এই মর্মে এখনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। ফলে নতুন টেন্ডার ডাকা নিয়ে ধোঁয়াশায় বিভিন্ন পুরসভা। স্বাভাবিকভাবেই পুরসভাগুলিতে থমকে গিয়েছে নতুন টেন্ডারের কাজ। এর ফলে নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
এতদিন পর্যন্ত পুরসভাগুলি নিজেদের প্রয়োজন মতো বিভিন্ন কাজের টেন্ডার ডাকত। সম্প্রতি রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর পুরসভা নয়, এবার কেন্দ্রীয়ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া হবে। ফলে পুরসভাগুলি আর নিজেদের উদ্যোগে টেন্ডার ডাকতে পারবে না। এত অবধি ঠিকই ছিল। সমস্যা দেখা দিয়েছে লিখিত নির্দেশিকা জারি না হওয়ায়। কোনও পুরসভাই এই মর্মে কোনও নির্দেশিকা হাতে পায়নি। এদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া এখনও শুরুই হয়নি। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
হাওড়া ও বালি পুরসভাকেও এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা উপযুক্ত নির্দেশিকার জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে। টেন্ডার না হওয়ায় কাজ হচ্ছে না। ফলে সামগ্রিক পরিষেবা থমকে গিয়েছে। হাওড়া পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, সাফাই নিয়ে হাওড়ায় যে সমস্যা, তা মূলত এজেন্সি নির্ভরতার কারণে। আমরা চাইছি, পুরসভার তরফে কিছু গাড়ি কিনে নিজেরাই সাফাই প্রক্রিয়া শুরু করতে। একারণে টেন্ডার করা প্রয়োজন। যেহেতু রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে টেন্ডারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমরা আর কোনও টেন্ডার ডাকছি না। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে টেন্ডার করা নিয়ে কোনও লিখিত নির্দেশিকা আমরা খনও পাইনি। ফলে ধোঁয়াশায় রয়েছি।
সূত্রের খবর, বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার হাল খারাপ হয়েছে। সাফাই এবং নিকাশির কাজেও বেশ কিছু নতুন টেন্ডার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত না থাকায় হাওড়া শহরে কার্যত থমকে গিয়েছে এই কাজগুলি। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে পরিষেবা থমকে যাবে বলে মত পুর কর্তাদের। একইভাবে, বেআইনি বাড়ির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। বেআইনি বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রেও লোকবল বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রেও কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে হলে টেন্ডার করতে হবে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব নয়।
এদিকে, হাওড়ার মতো একই সমস্যায় জর্জরিত বালি পুরসভা। নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সেখানেও আর করা হচ্ছে না। বালি শহরেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে টেন্ডার ডাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ফলে তারাও তাকিয়ে রয়েছে লিখিত নির্দেশিকার দিকে। এ নিয়ে বালি পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, আপাতত কোন টেন্ডার বালিতে হচ্ছে না। হাওড়ার মতো আমাদের কাছেও লিখিত নির্দেশিকা আসেনি। যেহেতু রাজ্য সরকারের শীর্ষস্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে টেন্ডারের কথা ঘোষণা হয়েছে, তখন নিশ্চয়ই এ নিয়ে নির্দেশিকা আসবে। তাই আমরা অপেক্ষায় আছি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যে সব ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে টেন্ডার ডাকতে হয়, সেইসব ক্ষেত্রগুলিতে কাজ বকেয়া পড়ে থাকলে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হবে। তাই সরকারের এই প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা উচিত।