সংবাদদাতা, বারুইপুর: কংক্রিটের জেটি ছিল এক সময়ে। কিন্তু তা এখন পলির তলায় চলে গিয়েছে। বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়েছিল বাঁশ-কাঠের সাঁকো। কিন্তু তাও ভেঙে বিপজ্জনক অবস্থায়। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ধরে যেতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বাধ্য হয়েই কাদায় নেমে নৌকা ধরতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে। ভাটার সময় শোচনীয় অবস্থা হয়। এই দুর্দশার চিত্র কুলতলির গোপালগঞ্জ পঞ্চায়েত এলাকায়। এই প্রসঙ্গে কুলতলির বিধায়ক গণেশ মণ্ডল বলেন, জেটির সংস্কারের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। অনেক জায়গাতেই ইতিমধ্যেই জেটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এটার ব্যাপারেও সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে।
কুলতলি ব্লকের গোপালগঞ্জ পঞ্চায়েতের গোপালগঞ্জ এলাকায় এই জেটিঘাট। নৈপুকুরিয়া নদী পার হয়ে শানকিজাহান এলাকায় যেতে হয় এলাকার মানুষজনের। গোপালগঞ্জ এলাকার স্কুলে আসতে হলে নৌকা পারপার করেই আসতে হয় স্কুল পড়ুয়াদের। কারণ, নইলে ১৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে জামতলা হয়ে স্কুলে যেতে হবে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, কংক্রিটের যে জেটিঘাটটি তৈরি করা হয়েছিল, সেটি ভেঙে গিয়েছে। আর এখন তাতে পলি পড়ে পড়ে পুরো মাটির নীচে চলে গিয়েছে। তিন বছর ধরে এই অবস্থা। কোনওরকমে ঠেকা দিতে প্রশাসন বাঁশ ও কাঠের যে সাঁকো করেছিল, তাও এখন বিপজ্জনক অবস্থায়। স্কুলের পড়ুয়ারা জানাল, সাঁকোর অধিকাংশ ভেঙে জলে পড়ে গিয়েছে। তাই সেখান দিয়ে যেতে গেলে কখনও পায়ে পেরেক ঢুকে যাচ্ছে, কখনও কেউ জলে পড়ে যাচ্ছে। কখনও পা কেটে যাচ্ছে বাঁশের ফাঁকে পড়ে। তাই অনেকটা কাদাপথ পেরিয়েই নৌকা ধরতে হচ্ছে শানকিজাহান যাওয়ার জন্য। এজন্য আমাদের স্কুলে যেতেও দেরি হচ্ছে। অবিলম্বে এই সাঁকোটা অন্তত জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে দেওয়া হোক। ভুক্তভোগী মানুষজন বলেন, ভাঁটা এলে আর বৃষ্টি পড়লে শোচনীয় অবস্থা হয়। এজন্য বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।