• ''যে যার মতো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে, যেন মুনাফা খাওয়ার খনি!', আগুন বাজারে রুষ্ট মমতা...
    ২৪ ঘন্টা | ১০ জুলাই ২০২৪
  • প্রবীর চক্রবর্তী: মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সরকারি আধিকারিকরাও। এই ১০ দিনে হঠাৎ করে সারা দেশে এতটা দাম বাড়ল কেন? প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    মমতা বলেন, 'টমেটো, করোলা, পটল এসবের দাম আকাশ ছোঁয়া। বাজারে যেতে মানুষ ভয় পাচ্ছে। আলুর দাম গত বছর এই সময় ছিল ২২ টাকা, কিন্তু এবারে হয়েছে ৩৫ টাকা। গত বছর এই সময় পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ টাকা। রসুন আগেরবারের ছিল ২০০ টাকা এবার হয়েছে ২৮০ টাকা। বেগুন, গুন কি আমি জানিনা, আগেরবার ছিল ১২০ টাকা এখনো হচ্ছে ১৪০ টাকা। কাঁচা লঙ্কা আগে ছিল ৬০ টাকার এবার হয়েছে ৪৫ টাকা একটু কম হয়েছে। টমেটো গতবার ছিল একশো কুড়ি এখানে ৮০ এখন। পটল গতবার ছিল ৫৫, এবার হয়েছে ৩৫।' মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ১০ দিনের মধ্যে সবজির দাম কমাতে হবে।

     

    ডিসেম্বরে ডিম নিয়ে আমরা আত্মনির্ভর হয়ে যাব। কেউ কোনদিন এই বিষয়টা ভাবেনি। ডিম আনতে হবে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে, মাছ আনতে হবে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে, কেন আমরা কি আত্মনির্ভর হতে পারি না!'

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, 'বাংলা জুড়ে মোট ৪৬৮ টি সুফল বাংলা আউটলেট রয়েছে সেখানে বাজারের দামের থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম কম। তিনি বলেন, 'নাসিকের পেঁয়াজের ওপর ভরসা না করে, আপনারা নাসিক থেকে কিনলে কি কমিশন পান? আমরা কেন আমাদের রাজ্যের চাষীদের কাছ থেকে কিনছি না? কেন আমি নাসিকে চলে যাচ্ছি হোয়াইট ফর? পেঁয়াজের জন্য তো কোন স্টোরেজ করে দেওয়া হয়েছে। হুগলি বর্ধমান মুর্শিদাবাদ এসব রাজ্যে ও তো খুব ভালো পেঁয়াজ হচ্ছে। নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনা বন্ধ করুন। আমাদের রাজ্যে 'সুখসাগর' পেঁয়াজ তৈরি হয়। আমাদের চাষীদের জন্য আমরা চার হাজার পেঁয়াজের গোলা তৈরি করে দিয়েছি। সেখান থেকে কেন আমরা কিনছি না?'

    রাজ্যের কৃষকদের জন্য আমরা মোট ৬৪০ কোটি টাকা শস্য বিমা হিসাবে দিয়েছি। আলু চাষীদের এবছর শুধু ৩২২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছি তাহলে আমাদের দাম বাড়বে কেন ?

    ৩,১৩৩ কোটি টাকা আমরা বাংলার ১ কোটি কৃষককে সাহায্য করেছি। কিন্তু ফলটা যদি উল্টো হয় কিছু দালালের জন্য, কিছু মুনাফা খোরের জন্য আমি কিন্তু সেটা বরদাস্ত করব না।

    'সারপ্রাইজ ভিজিট আবার বাড়াতে হবে। কৃত্রিম একটা চাহিদা তৈরি করা হয়। এখন কোল্ড স্টোরেজে ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু পড়ে রয়েছে। ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু ছিল। এখনো এই ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টান ধরে রেখে দিয়ে যাওয়া হয়েছে কেন ? এতটা সময় ধরে রাখতে আপনারা দেবেন না। ২৫ শতাংশ রেখে বাকিটা ছেড়ে দিন মার্কেটে। আগামী ৬ মাস ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লক্ষ মেট্রিক টন করে আলু বাজারে ছাড়ুন। এই আলু বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে না তো? দাঁড়ান, বর্ডার চেকআপ হবে। আমার রাজ্য থেকে পেঁয়াজ বাইরে বাংলাদেশে চলে যাবে, সে যাক, আপত্তি নেই কিন্তু আমার চাহিদা মেটানোর পরে তবে তো যাবে। এগুলো দেখা হচ্ছে না কেন কৃষি দপ্তর কি করছে?' 

    'দাম বাড়লো কেন? কেউ দেখার ছিল না? বর্ষা হলো বলে সাইজ ছোট হয়ে গেল, এটা তো আমি কখনো শুনিনি। এটা তো বৈজ্ঞানিকদের দিয়ে রিসার্চ করার মত ব্যাপার। মুনাফা করার মধ্যেও তো একটা লিমিট থাকবে। হোডিং কারা করছে এটা খেয়াল রাখুন। এটা করতে গিয়ে যেন কারোর কাছ থেকে কোন টাকা না তোলা হয়। আমি হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। ডিএম এসপিদেরও বলে দিচ্ছি। কোনরকম এক্সটরশন আমি বরদাস্ত করব না।'

    'টাস্ক ফোর্স এর কাজ ছিল বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ করা। তারা কি নির্বাচনের সময় ঘুমিয়ে ছিল ? সাতদিন পরপর টাস্ক কোর্সের মিটিং করতে হবে। আমি অর্ডার দিচ্ছি। আমাকে প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট দিতে হবে কতটা কমল। ১০ দিনের মধ্যে দাম কমাতে হবে। কিভাবে করবেন, না করবেন এটা টাস্কফোর্স কে ভেবে দেখতে হবে। সবজির জন্য আলাদা করে মাল্টিপারপাস কোল্ড স্টোরেজ করতে হবে। অতি গরমের ফলে যদি সবজি না হয় তাহলে উপায় তো বের করতে হবে। খাওয়ার জায়গা বন্ধ করতে হবে।'

    তেলপিয়া মাছ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কারা রটালো যে তেলাপিয়া মাছ খেলে ক্যানসার হয়। এটাতো আমিও তাই জানি। আমি তাহলে মিটিংয়ে বলে দিচ্ছি যে তেলাপিয়া মাছ খেলে ক্যানসার হয় না। হায়দ্রাবাদ থেকে মাছ না এনে আমরা কিভাবে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি সেটা দেখতে হবে। লেক মার্কেটে একটা দাম তো গড়িয়াহাটে আর একটা দাম, হাতিবাগানে একটা দাম তো বড় বাজারে আর একটা দাম, যে যার মত দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। যেন এটা একটা মুনাফা খাওয়ার খনি। গ্রাম গঞ্জে পেঁয়াজ আরও তৈরি করার জন্য চেষ্টা করতে হবে।'

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)