নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভাতেই সাংগঠনিক রদবদলের ইঙ্গিত দিলেন মহুয়া মৈত্র। কয়েকটি বিধানসভায় ফল খারাপ হওয়ার জন্য সাংগঠনিক নেতাদের তিনি ধমক দেন। কোথায় কোন নেতার জন্য ফল খারাপ হয়েছে, তার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন ব্লক সভাপতিদের। এদিন ‘গদ্দার’ নেতাদের টাইট দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর শহরের ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লিড থাকা কালীগঞ্জ ও পালাশীপাড়া বিধানসভা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে চাপড়া বিধানসভায় রেকর্ড লিডে আপ্লুত জেলা সভানেত্রী। সবমিলিয়ে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি মঞ্চ তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আত্মবিশ্লেষণের’ সভায় পরিণত হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া বলেন, ‘ভোটের পর একুশে জুলাই নিয়ে প্রস্তুতি মিটিং হল। সাংগঠনিক রদবদল হয়েই থাকে। ভোটের পর ফলাফল আমরা বিশ্লেষণ করি। সেটার ভিত্তিতে যদি সাংগঠনিক পরিবর্তন না করা যায়, তাহলে দলে গলদ থেকেই যাবে। তাই যেখানে যা করার আমরা সেটা করব।’
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে মহুয়া মৈত্র দ্বিতীয়বার সাংসদ হয়েছেন। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির ‘অনৈতিক’ বহিষ্কার ও এজেন্সির চাপেও তিনি দমে যাননি। নির্বাচনে জয়ের পর এই প্রথমবার ব্লকের নেতৃত্বকে নিয়ে তিনি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে গরহাজির ছিলেন চাপড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমান ও কালীগঞ্জের বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, যা নিয়ে জল্পনা ছাড়িয়েছে। সভায় দলের দুর্বল ও শক্তিশালী জায়গাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার ভোটের সময় কৃষ্ণনগর শহরে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন মহুয়া। কিন্তু, তারপরেও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের মুখ পুড়েছে। পুরসভার একটি ওয়ার্ড ছাড়া বাকি ২৪টি ওয়ার্ডেই তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে। অথচ দু’বছর আগেই পুরসভা ভোটে তৃণমূল শহরে ভালো ফল করেছিল।
লোকসভা নির্বাচনের সময় কাউন্সিলারদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষুব্ধ মহুয়া পুরসভার কাউন্সিলারদের নিজেদের মধ্যে লড়াইকেই কাঠগোড়ায় তোলেন। শোনা যাচ্ছে দলের শীর্ষমহলের নির্দেশ মতো কৃষ্ণনগর পুরসভায় শীঘ্রই বড়সড় রদবদল হতে চলেছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে পিছিয়ে পড়া কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, তেহট্ট বিধানসভার নেতৃত্বের কাছে তিনি চাপড়ার উদাহরণ তুলে ধরেন। কারণ জেবের গোষ্ঠী ও রুকবানুর গোষ্ঠীর চরম দ্বন্দ্বের মধ্যেই চাপড়া বিধানসভা রেকর্ড ৫৮ হাজার লিড দিয়েছে। প্রত্যাশার ফল দিতে পারেনি পলাশীপাড়া বিধানসভার তেহট্ট-২ ব্লক, যা নিয়ে মহুয়া তাঁর অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।
কালীগঞ্জ বিধানসভায় বিধায়ক ও সাংসদের দ্বন্দ্ব ভোট মরশুমেই প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০১৯ সালে কালীগঞ্জের ৩৬ হাজার লিড ছিল। এবার সেখানে তৃণমূলের একটি অংশ বামেদের অক্সিজেন জোগায়। যে কারণে লিড কিছুটা কমেছে। তাঁদের উদ্দেশ্য মহুয়া বলেন, ‘অ্যাকশন উইল বি টেকেন।’ তাই কালীগঞ্জ বিধানসভাতেও সাংগঠনিক রদবদলের জল্পনা ছড়িয়েছে। কালীগঞ্জের ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলা সভানেত্রী একটি তালিকা তৈরি করতে বলেছেন। যেখানে কাদের জন্য ভোট কমেছে, তাঁদের নাম থাকবে। আমরা সবটাই জানি। তবে আমরা লোকাল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব। তারপর যেসব নাম উঠে আসবে আমরা তা তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেব।