নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বর্ষা ঢুকতেই নদীয়া জেলায় চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। এখনও পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৭০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে বিগত এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ চিন্তায় ফেলছে জেলা প্রশাসনকে। কারণ বিগত এক মাসে কুড়িজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে, যা চলতি বছরে সর্বাধিক। তবে স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, এখনও পর্যন্ত জেলাতে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত সেভাবে হয়নি। গতবারের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম। তবু সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে রোগীর।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জেলাজুড়ে ডেঙ্গুর সামগ্রিক অবস্থা ভালোই। বর্ষা এলে ডেঙ্গুর উপদ্রব বাড়ে। তবে গত বছর যে বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছিল, এবার সেটি নেই। ডেঙ্গু দমন করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার পর্যন্ত নদীয়া জেলায় ৬৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ২৬ নম্বর সপ্তাহে ৮ জন ও ২৭ নম্বর সপ্তাহে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যেখানে গত বছরে এই সময় নদীয়া জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
গত বছর পুরসভা এলাকাতেও ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে চলতি বছরে সেই ছবি অনেকটাই বদলেছে। কল্যাণী পুরসভা ও নবদ্বীপ পুরসভায় ২ জন করে এবং রানাঘাট ও শান্তিপুর পুরসভায় ১ জন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। কৃষ্ণনগর শহরে এখনও পর্যন্ত কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি। সেই তুলনায় এবছর গ্রামীণ এলাকাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশি। কৃষ্ণনগর-১, তেহট্ট-২, নাকাশিপাড়া, হাঁসখালি ব্লকগুলোতে ডেঙ্গুর উপদ্রব বেশি। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে এইসময় নদীয়া জেলাতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৭।
প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত গতবছর জেলায় ডেঙ্গু প্রকোপ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। যার ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করতেও বেগ পেতে হয়েছিল স্বাস্থ্যদপ্তরকে। দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে ১০০ জন, ২০২১ সালে ৩২১ জন, ২০২২ সালে ২৩৪৭ জন ও ২০২৩ সালেও ৬৫৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।