সংবাদদাতা, বোলপুর: সম্প্রতি বেসরকারি দুই টেলিকম সংস্থা মোবাইল রিচার্জের খরচ এক ধাক্কায় অনেকাটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে। এতেই পোয়াবারো সরকারি টেলিকম সংস্থা বিএসএনএলের। ওই দুই টেলিকম সংস্থা থেকে বর্তমানে বিএসএনএলের রিচার্জ প্ল্যানের খরচ অনেকটাই কম। সেই কারণে ওই দুই নেটওয়ার্ক ছেড়ে অনেক গ্রাহক ঝুঁকেছেন বিএসএনএলের দিকে। এছাড়া বীরভূম জেলায় মাত্র দু’সপ্তাহেই নতুন সিম বিক্রি প্রায় ১০ গুণ বেড়ে গিয়েছে। বহু গ্রাহক মোবাইল নম্বর পোর্ট করেও বিএসএনএলে আসছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএসএনএল তাদের গ্রাহক সংখ্যা কতটা বাড়াতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
মোবাইল ব্যবহারের প্রথমদিকে গ্রাহকদের কাছে বিএসএনএল ছিল অপরিহার্য। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহার কারণে আধুনিকীকরণের কাজে ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে দেশের সরকারি সংস্থাটি। ফলে, কল ড্রপ থেকে নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গ্রাহকরা বিএসএনএল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। অন্যদিকে, বেসরকারি দুই সংস্থা প্রথমে থ্রি-জি ও পরে ফোর-জি বর্তমানে ফাইভ-জি স্পিডের ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া শুরু করে। এর ফলে সমগ্র দেশে ওই দুই বেসরকারি সংস্থার গ্রাহক সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যায়। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে স্মার্টফোন সাধারণ মানুষের কাছে অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সেই বিষয়টি কাজে লাগিয়েছে ওই দুই টেলিকম সংস্থা। একটা সময় পর্যন্ত বিনামূল্যে সিম, বিনামূল্যে কলিং ও ইন্টারনেট স্পিড দিয়ে কোটি কোটি গ্রাহক সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছিল দেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় টেলিকম ও বহুজাতিক সংস্থা। এতে দেশের সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে একটু অবসর পেলেই মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটের দৌলতে ইউটিউব, ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ বুলিয়ে নেন। রিলস, শর্ট ভিডিও প্রভৃতি দেখে টাইম পাস করতেও ভালোবাসেন। অভ্যাস ও আসক্তির কারণে এই মুহূর্তে ইন্টারনেট ছাড়া চলাই যায় না। দেশে কোটি কোটি গ্রাহক হওয়ার সুবাদে সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় বেসরকারি ওই দুই টেলিকম সংস্থা। আগে দুই মাসের প্ল্যানে প্রতিদিন ১.৫ জিবি ডেটা ও আনলিমিটেড কলের জন্য দেশের জনপ্রিয় সংস্থার রিচার্জ পিছু ৪৭৯ টাকা গুনতে হতো। জুলাই মাসে প্রথম সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭৯ টাকা। এছাড়া, ২ জিবি প্ল্যানটি ৫৩৩ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬২৯ টাকায়। যা মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কাছে অনেক বড় ধাক্কা হয়ে যায়। সম্প্রতি, সেই নেটওয়ার্কেরও কল ড্রপের সমস্যা বেড়েছে। এই দুই কারণে অনেক গ্রাহক এখন বিএসএনএলের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ, তাদের রিচার্জ অনেকটাই সস্তা। বেসরকারি সিম ব্যবহারকারী অঙ্কুর দাশগুপ্ত, রতন বিশ্বাস বলেন, যা খরচ বেড়েছে, ফের বিএসএনএলেই ফিরতে হল।
এপ্রসঙ্গে বিএসএনএলের বীরভূম জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) রবিশঙ্কর গুহ বলেন, আগের তুলনায় বিএসএনএলের ইন্টারনেট স্পিড ও কল পরিষেবা অনেক গুণ ভালো হয়েছে। তাই বেসরকারি সংস্থা দাম বাড়ানোর কারণে মাত্র দু’সপ্তাহেই সিম বিক্রি ও এমএনপি দশ গুণ বেড়েছে। এই মুহূর্তে বীরভূমের কিছু অংশে ৪জি স্পিডের ইন্টারনেট রয়েছে। অক্টোবর মাসের মধ্যেই গোটা বীরভূমে এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। তাতে গ্রাহকরা ৫০ এমবিবিএস পর্যন্ত স্পিড পাবেন। এছাড়া, আগামী এক বছরের মধ্যেই বীরভূম জেলায় ৫-জি ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।