সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপে ফেরিঘাটে পৌঁছনোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিনের পর দিন সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দু’ ধারে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকছে টোটো। এমনকী ফেরিঘাটের চারমাথার মোড়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চলছে যাত্রী ওঠানো নামানো। শুধু তাই নয়, ফুটপাত দখল করে এক শ্রেণির মানুষ ব্যবসা করছেন। অনেকেই তাঁদের দোকানের পণ্যসামগ্রী দিয়ে ফুটপাতের দখল নিয়েছেন। ফলে ফেরিঘাট যাওয়ার রাস্তায় প্রতিদিনই যানজটের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে এই এলাকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিসের ব্যবস্থা করা হোক।
বর্তমান বেহাল পরিস্থিতিতে বিশেষ করে চৈতন্যভূমি নবদ্বীপ ও আন্তর্জাতিক পর্যটন ক্ষেত্র মায়াপুরে আসা পর্যটকদের হয়রান হতে হচ্ছে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই বিদেশি। এছাড়াও এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিনই নবদ্বীপ থেকে মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জের মধ্যে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, নিত্যযাত্রী, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। এই ফেরিঘাট থেকে নৌকো বা লঞ্চে পার হয়ে অসংখ্য মানুষ যান অন্য পাড়ে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ফেরিঘাটে পৌঁছাবেন কী করে? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে কোনও হেলদোল নেই প্রশাসনের।
পোড়াঘাটের বাসিন্দা, কৃষ্ণনগর ডি এল কলেজের ছাত্রী মালিনী সাহা বলেন, এই ফেরিঘাটের মোড়ের বিশ্রী অবস্থা। টোটোর জন্য একদম যাতায়াত করা যায় না। প্রশাসন বিষয়টি কেন দেখছে না, তাই বুঝতে পারছি না ।
স্থানীয় বাসিন্দা সতু রায় বলেন, প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন। বাস স্ট্যান্ড ও স্টেশন হয়ে সেই সব পুণ্যার্থী ও পর্যটক আসছেন। এছাড়া এখানেই চার থেকে পাঁচশো টোটো রয়েছে। সব টোটোগুলো একই সঙ্গে এখানে জমায়েত হচ্ছে। এর ফলে ভীষণ যানজট হচ্ছে। এছাড়া পঞ্চায়েতের টোটোগুলোও ভিড় করছে। রাস্তার সব জায়গা দিয়ে যদি টোটো যায় তাহলে মানুষ যাবে কোথা দিয়ে।
বড়ালঘাট জাহ্নবী পাড়ার বাসিন্দা, টোটো চালক অজিত মণ্ডল বলেন, এখানে ট্রাফিক পুলিসের ব্যবস্থা করা উচিত। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়াই অনেক টোটো এবং পঞ্চায়েতের টোটো ভিড় করছে। এ বিষয়ে পুরসভায় কড়াকড়ি করা উচিত।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, শহরের যানজট মোকাবিলায় পুরসভা টোটো নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় চব্বিশশো লাইসেন্স প্রাপ্ত টোটো আছে। বিনা লাইসেন্সে কোনও টোটো চলতে দেওয়া হবে না। কিছু কিছু জায়গায় টোটো স্ট্যান্ড থাকলেও ফেরিঘাট এলাকায় নির্দিষ্ট টোটো স্ট্যান্ড করা যায়নি জায়গার অভাবে। সেজন্য রাস্তার পাশে টোটোগুলি দাঁড়াচ্ছে। আমরা টোটো স্ট্যান্ড করার চিন্তাভাবনা করছি। পুলিস প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাঁরা দেখবে সঠিক লাইসেন্স আছে কিনা। যদি লাইসেন্সবিহীন টোটো চলে তো সেটিকে যেন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিস জানিয়েছে অভিযান চলছে। যাতে ওই জায়গা যানজট মুক্ত থাকে মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য ওখানে ট্রাফিক পুলিস দেওয়া হয়েছে। টোটোর জেরে যানজট। নিজস্ব চিত্র