• গোয়ালিওরের বিএসএফের  অ্যাকাডেমি থেকে পলাতক দুই মহিলা, পাকড়াও ডোমকলে
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গোয়ালিওরের বিএসএফ অ্যাকাডেমি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান দুই মহিলা কনস্টেবল। বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগ অর্থাৎ ‘জি’ ব্রাঞ্চ তাঁদের খোঁজে উঠেপড়ে নামে। অবেশেষে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হল। সোমবার ডোমকলের সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম থেকে তাঁদের খোঁজ মিলেছে। তাঁদের কলকাতায় বিএসএফের ‘সেফ কাস্টডি’তে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসএফ অধিকারিকরা। উল্লেখ্য, গত ৬ জুন গোয়ালিওরের বিএসএফ অ্যাকাডেমি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান দুই লেডি কনস্টেবল। তাঁদের একজনের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে। অন্যজন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। দু’জনে পরিকল্পনা করেই গা ঢাকা দিয়েছেন বলে সন্দেহ হয় বিএসএফের। এমনকী, কোনও গুপ্তচর সংস্থার কাছে তাঁরা বিএসএফের একাধিক কনফিডেন্সিয়াল তথ্য শেয়ার করতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হয়েছিল। তারজন্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার সমস্ত বিএসএফ ইউনিটকে সতর্ক করেছিল। তারপরই উঠেপড়ে নামে মুর্শিদাবাদ সীমান্তের বিএসএফের জি ব্রাঞ্চ। অবশেষে তারা ডোমকলের প্রত্যন্ত এলাকায় ওই দু’জনের খোঁজ পায়। হঠাৎ করে কেন এভাবে অ্যাকাডেমি ছেড়ে তাঁরা পালালেন, সেব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, চার মাস আগে বিএসএফ অ্যাকাডেমিতে দু’জনের আলাপ এবং বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যদিও তাঁরা ব্যক্তিগত কারণে বিএসএফ অ্যাকাডেমি থেকে পালিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এত পরিকল্পনা করে পালানোর পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে কি না সেব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছেন জি ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। কারণ, গোয়ালিওরের ওই অ্যাকাডেমি থেকে পালানোর সময়, তাঁদের যাতে সহজে খুঁজে না পাওয়া যায়, তারজন্য তাঁরা নিজেদের মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখেননি। ওই অ্যাকাডেমিতে মোবাইল রেখে তাঁরা পালিয়ে আসেন। ওই দুই অবিবাহিত মহিলা কনস্টেবল বিএসএফের এমন একটি শাখায় কর্মরত ছিলেন, যার সঙ্গে সেনাবাহিনীর অস্ত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কিত। তাই তাঁদের হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গুপ্তচরবৃত্তি করার প্রসঙ্গ সামনে আসছিল। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন বিএসএফের আধিকারিকরা। 


    বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করেছিলাম ওই দুই মহিলা মুর্শিদাবাদেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন। সেইমতো আমরা সীমান্তবর্তী সমস্ত এলাকায় খোঁজখবর শুরু করি। গত ১০ দিন যাবৎ আমরা মুর্শিদাবাদের ওই কনস্টেবলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পারি, দু’জনেই ডোমকলের সীমান্তবর্তী একটি জায়গায় ঘরভাড়া নিয়ে রয়েছেন। আমরা ওই পরিবারকে বুঝিয়ে ওঁদের দু’জনের সঙ্গে কথা বলে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছি। তাঁদের কলকাতায় বিএসএফের ‘সেফ কাস্টডি’তে রাখা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)