নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ পুরসভার অভ্যন্তরে চরম ডামাডোল তৈরি হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে একাধিক কাউন্সিলার পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার অলোক দত্তকে সরানোর লিখিত দাবি জানিয়েছেন। বেআইনি কাজকর্ম, কাউন্সিলারদের না জানিয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কাউন্সিলদের গোষ্ঠীকোন্দল ঘিরে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় উন্নয়নের কাজ শিকেয় উঠেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
আরামবাগ পুরসভা তৃণমূলের দখলে। ১৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে একমাত্র ১৯ নম্বর ওয়ার্ডটি বিজেপির দখলে রয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলীয় একাধিক কাউন্সিলারের বিরোধ চরমে উঠেছে। তৃণমূল কাউন্সিলারদের একাংশের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার বকলমে পুরসভা চালাচ্ছেন। চেয়ারম্যান অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করছেন। নতুন পুরসভায় বোর্ড গঠনের পর বোর্ড অব কাউন্সিল অলোক দত্তকে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ করে। অভিযোগ, পেশায় প্রমোটার ওই ইঞ্জিনিয়ার অচিরেই পুরসভার সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। পুরসভার যাবতীয় কাজকর্মের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। চেয়ারম্যানের হাত মাথায় থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের না জানিয়ে কাজকর্ম করছেন। ওই ইঞ্জিনিয়ারের বেআইনি কার্যকলাপ ও নিয়ম না মেনে কাজকর্ম করা নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলারদের একাংশের ক্ষোভ বাড়ছিল। এবার তাঁরা চেয়ারম্যানের কাছে ওই ইঞ্জিনিয়ারকে সরানোর লিখিত দাবি জানিয়েছেন।
পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রমাপ্রসাদ দলুই বলেন, আমার ওয়ার্ডে যেসব উন্নয়নমূলক কাজকর্ম হচ্ছে, তা নিয়ে কিছুই জানতে পারছি না। মর্জিমাফিক কাজকর্ম করা হচ্ছে। কতটা নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জনপ্রতিনিধিকে অগোচরে রেখে পুরসভার একজন ইঞ্জিনিয়ার কীভাবে কাজ করতে পারেন?
৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুকুর আলি বলেন, নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি তাঁর ওয়ার্ডের কাজকর্ম সম্বন্ধে কিছু জানতে পারছেন না। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার যেসব কাজ করছেন, তা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানকে বিষয়টি আগেও জানানো হয়েছে। তারপরেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে ওই ইঞ্জিনিয়ারকে সরিয়ে দেওয়ার লিখিত অভিযোগ করেছি। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সঞ্জয় দাস বলেন, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারের কাজকর্ম নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়। সেই কারণে তাঁকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রদীপ সিংহ রায় বলেন, কাউন্সিলাররা নিজের ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে কিছু জানতে পারবেন না কেন? পুরসভার ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে নানা বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ উঠেছে। যার জন্য আমাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা চাই তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নিন। ইঞ্জিনিয়ার অলোক দত্তের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী বলেন, পুরসভার একজন ইঞ্জিনিয়ার কম ছিল। বোর্ড অব কাউন্সিল অলোক দত্তকে নিয়োগ করে। কয়েকজন কাউন্সিলার ওই ইঞ্জিনিয়ারকে সরাতে লিখিত দাবি জানিয়েছেন। স্বার্থ মিটছে না বলেই প্রমাণহীন এই ধরনের দাবি তোলা হয়েছে। বেশিরভাগ কাউন্সিলারের এই ধরনের কোনও অভিযোগ নেই। বিষয়টিকে কোনওরকম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে ওদের দলের কাউন্সিলাররাই প্রশ্ন তুলেছেন। পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করছে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের স্বার্থ নয়, তৃণমূল কাউন্সিলাররা নিজেদের স্বার্থ দেখছেন।