• তৃণমূল কর্মীকে খুনে দলের দুই অঞ্চল সদস্য সহ দোষী সাব্যস্ত ৭
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীকে খুনের দায়ে মঙ্গলবার দলের এক অঞ্চল সভাপতি ও দুই পঞ্চায়েত সদস্য সহ সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করল বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া তৃণমূল নেতাদের নাম বাবর আলি কোটাল, লাল মহম্মদ ভুঁইয়া, রাজন মণ্ডল, নবিয়াল মণ্ডল, সুকুর ভুঁইয়া, ইয়াসিন ভুঁইয়া ও হোসেন মণ্ডল। তাঁদের মধ্যে প্রথমজন বর্তমানে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি, পরের দু’জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং বাকিরা দলের অঞ্চলস্তরের নেতা। তাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি জয়পুরের বৈতল এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। আজ, বুধবার আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অনুরুদ্ধ মাইতি ওই মামলার সাজা ঘোষণা করবেন। দলেরই কর্মীকে খুনের দায়ে নেতাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা চাউর হতেই আদালত চত্বরে এদিন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেসের জয়পুর ব্লক সভাপতি কৌশিক বটব্যাল থেকে শুরু করে দলের একাধিক নেতা আদালত চত্বরে আসেন। যদিও তাঁরা কেউই এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।  


    সরকার পক্ষের আইনজীবী গুরুপদ ভট্টাচার্য বলেন, বৈতল এলাকার হরিণাশুলি সংসদ এলাকায় ইন্দিরা আবাসনের টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি চাউর হতেই ২০১২ সালের ১জানুয়ারি বিকেলে হরিণাশুলি গ্রামে বেশ কয়েকজন বহিরাগত সহ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। ওই সময় পার্শ্ববর্তী হাতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী গোলাম কুদ্দুস শেখ সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বাবর আলি কোটাল, নবিয়াল মণ্ডল সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা গোলাম কুদ্দুস শেখকে আটকে প্রচণ্ড মারধর করে। টাঙি, লাঠি, কুড়ুল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোলাম কুদ্দুস শেখকে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওইদিনই তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পরের দিন মৃতের দাদা ইউসুফ আলি শেখ মোট ৪১জনের বিরুদ্ধে জয়পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় পুলিস অভিযুক্তদের অধিকাংশকেই ধাপে ধাপে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পায়। সেই থেকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে মামলাটি চলছিল। পুলিস তদন্তের পর ১৩জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। বাকিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এদিন ওই মামলার শেষ শুনানি ছিল। ১৩জন অভিযুক্তই এদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়। তবে যথেষ্ঠ তথ্য ও প্রমাণ না থাকায় বিচারক ছ’জনকে বেকসুর খালাস করেন। বিভিন্ন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের এদিনই হেফাজতে নেয় পুলিস। আজ এই মামলার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক।
  • Link to this news (বর্তমান)