• পক্ষে বিপক্ষে বিভক্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মাওবাদী নেতা অর্ণব দাম ওরফে বিক্রমের পিএইচডি করা নিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষর মধ্যে এখন আড়াআড়ি বিভাজন। এক পক্ষের যুক্তি, এদেশে জেলে বন্দি থেকে ভোটে লড়াই করে সাংসদ হওয়া যায়।  তাহলে জেল বন্দি কেউ কেন পিএইচডি করতে পারবে না? তাছাড়া এখন অনলাইনে ক্লাস করা যায়। তাই অর্ণবের ক্ষেত্রে পিএইচডি করা অসম্ভব নয়। অন্য পক্ষের যুক্তি, ইতিহাসে পিএইচডি করতে হলে ছ’মাস ক্লাস করতে হবে। এরকম একজন ‘হাইপ্রোফাইল’ বন্দির পক্ষে সেটা কিভাবে সম্ভব? বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হামলা হলে তার দায় কে নেবে? বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভর্তির জন্য কাউন্সেলিং ছিল। সেটা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হুগলি জেল সুপারকে চিঠি করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, অর্ণবের পক্ষে  ক্লাস করা সম্ভব হবে কি করে? তিনি রাজ্যপাল ও রাজ্য  সরকারের কাছে কোনও অনুমতি চেয়েছেন কি না, সেটাও জানতে চেয়েছেন। উপাচার্য গৌতম চন্দ্র বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়নি। পিএইচডি ক্লাস দু’দিন পরে শুরু হলেও কোনও সমস্যা নেই। কতগুলি টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। সেগুলি দেখা হচ্ছে। উনি মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না জানি না। 


    বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এইচওডি সৈয়দ তানভির নাসরিন বলেন, রাজ্য সরকার বা কারা বিভাগ তাঁকে সহযোগিতা করেছে বলেই অর্ণব ইন্টারভিউ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। সরকারের সর্বদা লক্ষ্য থাকে যারা মূলস্রোতে ফিরতে চাইছেন তাঁদের সহযোগিতা করা। জেলে বসে পড়াশোনা করা যাবে না, এমনটা নিয়ম নেই। এবারের লোকসভা নির্বাচনে দু’জন জেলে বসে লড়েছেন। তাঁরা জিতেছেন। জর্জ ফার্নান্ডেজও জেলে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এঁরা যদি জেলে বসে নির্বাচনে লড়তে পারেন, তাহলে উনি পড়াশোনা করতে পারবেন না কেন? এক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকার কথা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক আধিকারিক বলেন, হুগলি সংশোধানাগার থেকে কিছুদিন আগে একটা চিঠি করা হয়। তাতে উল্লেখ ছিল, এক জেলবন্দি পিএইচডি করতে চাইছেন। জেলে থাকলে পিএইচডি করতে বাধা নেই। তাই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই চিঠিতি অর্ণব মাওবাদী নেতা বা বিভিন্ন হিংসাত্মক কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন, তা কোথাও উল্লেখ ছিল না। এধরণের কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করানোর ক্ষেত্রে কড়া নিরপত্তার বন্দোবস্ত করতে হয়। সেটা কে করবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হলে তার দায় কে নেবে? একজনকে মূলস্রোতে ফেরাতে গিয়ে আর দশজন ছাত্রের ক্ষতি হবে, এমনটা কখনই কাম্য নয়।


    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্ণবের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। হামলা, গুলি চালানো সহ একাধিক কেস রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। খড়্গপুর আইআইটিতে পড়তেন অর্ণব। মাঝ পথে পড়াশোনা বন্ধ করে তিনি মাওবাদী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।  মেধার জোরে অল্প দিনেই সংগঠনে নজর কাড়েন। তাঁর জীবনে হিংসাত্মক অধ্যায় এখন অতীত। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করে তিনি নতুন ইতিহাস রচনা করতে চাইছেন। আর সেই অতীত ইতিহাসই তাঁর কাছে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)