• জঙ্গলমহল কাপের সফল ফুটবলার মৌসুমির গায়ে জাতীয় দলের জার্সি
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • পিনাকী ধোলে, শালবনী: জঙ্গলমহল কাপে ভালো খেলার সুবাদে বিভিন্ন ক্লাব কর্তাদের নজরে পড়েছিল আগেই। তারপর ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একাধিক টুর্নামেন্টে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর ফুটবলার মৌসুমি মুর্মু। গতবছর ‘খেলো ইন্ডিয়া’ টুর্নামেন্টে বাংলা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে মৌসুমি তাক লাগিয়ে দেন গোটা দেশকে। শালবনীর প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মেয়েই এবার সুযোগ পেলেন জাতীয় ফুটবল দলে(সিনিয়র)। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ জুলাই মায়ানমারের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে চলেছেন মৌসুমী। শালবনীর মতো একটা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মাত্র ২০ বছর বয়সে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় গর্বিত ব্লক তথা জেলার মানুষ। 


    দেড় দশক আগেও জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙত বোমা, গুলির আওয়াজে। বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে থাকত তল্লাটের বাতাস। যদিও পালবদলের পর থেকে ধীরে ধীরে শান্তি ফিরতে থাকে জঙ্গলমহলে। এখানকার যুবক-যুবতীদের কেউ যাতে ‘বিপথে’ পরিচালিত করতে না পারে, তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয় ‘জঙ্গলমহল কাপ’। জঙ্গলমহল কাপ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সফলদের কোনও না কোনও সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন জঙ্গলমহলের অসংখ্য যুবক-যুবতী। জঙ্গলমহল কাপের সুবাদে অভাব ঘোচে মৌসুমির মতো বহু ছেলেমেয়ের পরিবারেও। 


    পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর তিলাখুলায় হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম মৌসুমির। বাবা সুজিত মুর্মু সামান্য কিছু জমিতে চাষাবাদ করেন। মা আরতিদেবী গৃহবধূ। একসময় সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তার উপর মৌসুমীর এক দাদা ও দিদি রয়েছেন। তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসার চালানোই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল সুজিতবাবুর। যদিও এখন ছেলে-মেয়েদের সাফল্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পরিবার। অভাব ঘুচেছে। মাটির জায়গায় পাকা হয়েছে বাড়ি। জঙ্গলমহল কাপে সাফল্যের সুবাদে মৌসুমির দাদা সুব্রত মুর্মু এখন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার। রেলে চাকরিও করেন। মৌসুমির দিদি মৌমিতা মুর্মুও জঙ্গলমহল কাপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন শালবনী জাগরণের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি করেন। মৌসুমিও ওই ক্লাবেই খেলতেন। ২০১৭ সালে তিনিও সিভিক ভলান্টিারের চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর ১৮ বছর বয়স না হওয়ায় চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি। গতবছর তিনি চাকরিতে যোগ দেন।


    মৌসুমির পুরাতন ক্লাব শালবনী জাগরণের সম্পাদক সন্দীপ সিংহ বলেন, ও খুব ভালো অ্যাথলিট ছিল। পরে দাদা-দিদিকে দেখেই ওর ফুটবলের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। ক্লাবের কোচ নারায়ণ সিংহ ওকে তৈরি করেছেন। তাঁর জন্যই আমাদের ক্লাব চারবার জঙ্গলমহল কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ক্লাবের অনেকেই বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন খ্যাতনামা ক্লাবের হয়ে খেলেন। তবে মৌসুমি জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। 


    মৌসুমির জাগরণ ক্লাবের কোচ নারায়ণ সিংহ বলেন, ওর পরিশ্রমই এই সাফল্য এনে দিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাব থেকে বাংলার জার্সি গায়ে বহু টুর্নামেন্ট খেলেছেন। এবার দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)