• মেদিনীপুর শহরে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শহরের প্রধান রাস্তা। প্রতিদিন কয়েকশো বাস, কয়েক হাজার ট্রাক, ছোট গাড়ি চলাচল করে। অথচ রাস্তা এতই সংকীর্ণ যে চলাচল করাই দায়। দীর্ঘদিন রাস্তা সংস্কার বা সম্প্রসারণ হয়নি। অফিস টাইমে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ যেতে আধ ঘণ্টা লেগে যায়। সংকীর্ণ রাস্তা চওড়া করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিত্যযাত্রীরা। অবশেষে মেদিনীপুর শহরের এলআইসি মোড় থেকে কেরানিচটির প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণ শুরু করল জেলা প্রশাসন। সম্প্রসারণের জন্য ভাঙা পড়বে বহু অবৈধ নির্মাণ। ইতিমধ্যেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙা শুরুও হয়েছে। 


    মেদিনীপুর শহরের উপর দিয়ে প্রতিদিন আটশোর বেশি বাস, কয়েক হাজার পণ্যবাহী লরি ও ছোট গাড়ি যাতায়াত করে। বাসগুলি মূলত বাসস্ট্যান্ড থেকে এলআইসি মোড় হয়ে কেরানিচটি দিয়ে শহর থেকে বাইরে যায়। শহরে ঢোকার সময় আমতলা, জগন্নাথ মন্দিরের রুটটি ব্যবহার করে। অথচ, দু’টি রাস্তাই ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। রাস্তার দু’ধারে অবৈধ নির্মাণ, দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। খদ্দেররা রাস্তার ধারেই গাড়ি, বাইক দাঁড় করিয়ে রাখছেন। এরসঙ্গে রাস্তার উপর ‘অবৈধ’ টোটোর উত্পাত রয়েছে। এসবের জেরে রাস্তায় যানজট লেগেই রয়েছে। যানজট সমস্যায় নাজেহাল শহরবাসী। যদিও সেই সমস্যা এবার মিটতে চলেছে বলে দাবি প্রশাসনের। 


    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২কোটি টাকা ব্যয়ে কেরানিচটি থেকে এলআইসি মোড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার ঢেলে সংস্কার করবে পূর্তদপ্তর। বর্তমানে রাস্তাটি সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া রয়েছে। রাস্তাটি সাত মিটার চওড়া করা হবে। রাস্তায় ঘনঘন বাস দাঁড়ানোর কারণে যাতে যানজট না হয় তার জন্যও থাকছে আলাদা ব্যবস্থা। যে এলাকায় বাসস্টপ থাকবে সেখানে রাস্তা ১০মিটারের বেশি চওড়া করা হবে। ট্রাক দাঁড়ানোর জন্য হাইওয়েতে যেরকম ব্যবস্থা থাকে, সেরকম রাস্তা হবে। শুধুমাত্র সেখানেই বাস দাঁড়াবে। তাছাড়া, রাস্তা দখল করে যেসব অবৈধ নির্মাণ, দোকান তৈরি হয়েছে সেগুলি সরাতে এখন থেকেই পদক্ষেপ শুরু করেছে প্রশাসন।


    জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছিল। অবশেষে কাজ শুরু হল। ইতিমধ্যেই কালভার্টগুলি নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তা মিটলেই অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। তবে ওই রাস্তার পাশাপাশি কেরানিতলা থেকে আমতলার রাস্তাও সংস্কারের জন্য রাজ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে জেলা পূর্তদপ্তর। ওই রাস্তাটিও সাত মিটার চওড়া করা হবে। পূর্তদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অতনু মাইতি বলেন, আমরা মাপজোখ করে রাজ্যের কাছে প্রস্তাব জমা দিয়েছি। অনুমোদন মিললেই রাস্তার কাজ শুরু হবে। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, দু’টি রাস্তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। আমরা প্রশাসনকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)