দুর্গাপুরে সিটি সেন্টারে তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙল এডিডিএ
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে রাস্তার দু’পাশে জবরদখল হয়ে যাওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে মঙ্গলবার অভিযানে নামল আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ(এডিডিএ)। এদিন সকাল থেকে জেসিবি মেশিন দিয়ে ১৫-২০টি অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়। সরকারি জমির উপর গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসও রক্ষা পায়নি। জেসিবি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ছিলেন এডিডিএর আধিকারিকরা। এডিডিএর দাবি, উচ্ছেদ অভিযান নয়, দখল হয়ে যাওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।
সরকারি জমি দখলদারি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জবরদখল সরাতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু হয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন একাধিকবার বৈঠক করে। রাস্তার দু’পাশের জায়গা হকারদের দখলে চলে গিয়েছে। সেইসব সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে হকারদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে সরে যেতে বলা হয়। তাছাড়া দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলজুড়ে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রতিদিন মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অনেকে দোকানপাট নিজেরাই গুটিয়ে নিয়েছেন। এরপরই শনিবার প্রথম সিটি সেন্টারের একাংশে বেশকিছু দোকানপাট জেসিবি মেশিন দিয়ে ভেঙে দেয় এডিডিএ কর্তৃপক্ষ। তবে সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি জেলা প্রশাসনকে। এদিন সকাল থেকে ফের জবরদখল সরানোর কাজ শুরু হয়। ওই এলাকায় অবনীন্দ্র বীথি রোড ও রেড ক্রস রোড অত্যন্ত ব্যস্ত। ওই দু’টি রাস্তার দু’পাশের ফুটপাত হকারদের দখলে চলে গিয়েছিল। এডিডিএ কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগেই দখলদার মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান করেছিল। কিন্তু সেগুলি পুনরায় দখল হয়ে যায়। পাশাপাশি সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড চত্বরেও একই পরিস্থিতি হয়। ওই সমস্ত এলাকায় হকারদের সরে যেতে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিছু ব্যবসায়ী প্রশাসনের নির্দেশে সরে গিয়েছেন। তবে দোকানের কাঠামো থেকে যাওয়ায় এদিন জেসিবি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। অবনীন্দ্র বীথি রাস্তায় দীর্ঘদিনের পুরনো তৃণমূলের পার্টি অফিসটি ছিল। সেখানে দলের কাজকর্ম চলত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস দেওয়া হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই ওই পার্টি অফিসের চাল সহ কাঠামো খুলে ফেলেন তাঁরা। পার্টি অফিসে থাকা জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিন বাকি কংক্রিটের কাঠামো জেসিবি দিয়ে ভেঙে দিল এডিডিএ। তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিজ্ঞপ্তি পাওয়ামাত্র সরকারি জমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে পার্টি অফিসটি নতুন করে তৈরি করতেই হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের কাছে জমি চেয়ে আবেদন করা হবে। এডিডিএর চেয়ারম্যান কবি দত্ত বলেন, উচ্ছেদ নয়, সরকারি নিয়ম মেনে দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এবার অবনীন্দ্র বীথি রাস্তাটি সম্প্রসারণের কাজ শুরু করা হবে। -নিজস্ব চিত্র