সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মঙ্গলবার বিপত্তারিণী পুজো উপলক্ষ্যে নবদ্বীপের পোড়ামা মন্দিরে ভক্তরা পুজো দিতে দলে দলে ভিড় করেন। এদিন মঙ্গলচণ্ডীতলার মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরেও বিপত্তারিণী ব্রত পালন করেন অনেকেই। মন্দিরেও বহু মানুষ পুজো দেন। পোড়ামাতলায় বেশ কিছু ব্যবসায়ী তেরো ফল, তেরো ফুল এবং লাল সুতো নিয়ে দোকান পেতে বসেছিলেন। পোড়ামা মন্দির চত্বরে ছিল বিশেষ পুলিসি ব্যবস্থা।
মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের গৌরনগর নতুন ঘোলা পাড়া থেকে ছোট মেয়ে রাইকে নিয়ে পুজো দিতে এসেছিলেন সুস্মিতা ঘোষ। তিনি বলেন, প্রতিবছরই পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাসে থেকে বিপত্তারিণী মায়ের পুজো দিই। নিয়ম মেনে তেরো রকম ফল ও তেরো রকম ফুল দিয়ে পুজো দিলাম। পূর্ব বর্ধমানের মাগনপুর থেকে মা সুপ্রীতি দাসের সঙ্গে পুজো দিতে এসেছিলেন কলেজ ছাত্রী পায়েল। তিনি বলেন, পোড়ামাতলায় বিপত্তারিণী পুজোয় পরিবারের সবার মঙ্গল কামনায় পুজো দিলাম। এরপর লাল সুতো হাতে পরলাম। বাড়ি গিয়ে চালের জিনিস কেউ খাবে না। নিয়ম মেনে তেরোটা করে লুচি, কেউবা ১৩টা ছোট সাইজের রুটি, তেরো রকমের মিষ্টি ও ফল খাব। পূর্ব বর্ধমানের বেলেরহল্ট থেকে তেরো ফল ও তেরো ফুল নিয়ে পোড়ামাতলায় দোকান পেতে বসেছিলেন স্বপ্না মণ্ডল। তিনি বলেন, বিপত্তারিণী পুজোয় ভালোই বিক্রি হয়। তেরো রকমের ফুল ১০ টাকা ও তেরো রকমের ফল ১০ টাকা এবং লাল সুতো ১০ টাকা করে বিক্রি করছি। আজ ভালো ভিড় হয়েছিল। আগামী শনিবার আরও অনেক মানুষ পুজো দিতে ভিড় করবেন।
নবদ্বীপ পোড়ামা মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, বিপদতারিণী পুজো হয় আষাঢ় মাসে দুই রথের মাঝামাঝি সময়ে মঙ্গল ও শনিবার। বিপত্তারিণীতে গ্রাম বাংলার বহু মানুষ পোড়ামা মন্দিরে পুজো দেন। এদিন পুলিসি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল।