মাসির বাড়িতে মদনমোহনের জন্য বিপুল আয়োজন, প্রসাদ পেতে ভক্তদের ভিড়
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর মদনমোহন রথযাত্রা উপলক্ষ্যে এখন মাসির বাড়ি গুঞ্জবাড়িতে এসেছেন। তিনবেলা তাঁকে ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। দুপুরে প্রায় ৪০ কেজি খিচুড়ি, ২০-২৫ কেজি সব্জির তরকারি, পাঁচ-ছয় কেজি দুধের পায়েস নিবেদন করা হচ্ছে। কোনও কোনও দিন আরও বেশি খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে। বিকেলে মদনমোহনকে আটটি রসগোল্লা, ১০০ গ্রাম ছানা ও ৫০ গ্রাম মিছরি দেওয়া হচ্ছে। রাতে তাঁকে এক কেজি আটার লুচি, দুধ ও চিনি দেওয়া হচ্ছে।
রথের দিন মদনমোহন মন্দির থেকে ৬০ ভরির সোনার ছাতা ও দশ ভরি সোনার মুকুট মাথায় পরে মদনমোহন রথে চেপে মাসির এসেছেন। মাসির বাড়িতে তাঁকে নানা ধরনের স্বর্ণালঙ্কারে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরে সারা বছর মদনমোহনকে যেভাবে সাজিয়ে রাখা হয়, এখানেও সেভাবে তাঁকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় গুঞ্জবাড়িতে কীর্তনের আসর বসছে। রোজ হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হচ্ছে মদনমোহনের মাসির বাড়িতে।
মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী মঙ্গলবার বলেন, গুঞ্জবাড়ি মন্দিরে প্রতিদিন দুপুরে মদনমোহনকে খিচুড়ি, সব্জি, পায়েস ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হচ্ছে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে মদনমোহনের সেই ভোগ দুপুরে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিকেলে মদনমোহনকে রসগোল্লা, ছানা, মিছরি সাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাতে লুচি ও দুধ ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হচ্ছে প্রতিদিন।
মদনমোহনের দ্বাদশ যাত্রার মধ্যে অন্যতম রথযাত্রা। রাজ আমল থেকে রথের দিন মদনমোহন সুসজ্জিত রথে চেপে মদনমোহন মন্দির থেকে গুঞ্জবাড়িতে তাঁর মাসির বাড়ি আসেন। সেখানে তাঁর পুজো হয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। এসময় দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে মদনমোহনকে প্রায় চার-পাঁচ কেজি চাল ডালের খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে ভক্তরাও নিজেদের মতো করে মদনমোহনকে ভোগ নিবেদন করেন। সেসব ভোগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি চাল, ডালের খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে। কোনও কোনও দিন সেই পরিমাণ প্রায় ১০০ কেজি হয়ে যাচ্ছে বলে মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসাদ হিসেবে তা ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে রোজ। ট্রাস্ট ও ভক্তদের নিয়ে আসা দুধ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ-সাত কেজি দুধের পায়েস রান্না করা হচ্ছে। মন্দিরে মদনমোহন সারা বছর যেসব অলঙ্কার পরেন সেসব রথের দিন মন্দির থেকে আলাদা করে কড়া পুলিসি প্রহরায় গুঞ্জবাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে তাঁকে আবার সোনার চেন, হাতের বাজু, তাগা, পায়ের নুপূর সহ প্রায় ১০০ ভরির সোনার অলঙ্কার পরানো হয়। এসব পরে সুসজ্জিত মদনমোহন মহা সমারোহে সাতদিন মাসির বাড়ি কাটিয়ে অষ্টম দিন উল্টো রথে আবার মন্দিরে ফিরে আসেন। নিজস্ব চিত্র