১০ দিন ধরে বন্ধ জাতীয় সড়ক, ব্যবসায় কয়েক কোটির ক্ষতি
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উভয় সঙ্কট! টানা ১০ দিন ধরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় কালিম্পংয়ের অর্কিড সহ সব্জি সময়মতো আসছে না শিলিগুড়ির বাজারে। আবার শিলিগুড়ির বাজার থেকে সময়মতো সব্জি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছচ্ছে না কালিম্পংয়ে। এর জেরে মাত্র কয়েক দিনেই কালিম্পং ও শিলিগুড়ির বাজারে কোটি টাকার ব্যবসা লোকসান হয়েছে বলে আশঙ্কা। শুধু তাই নয়, বৃষ্টিতে কালিম্পংয়ের এলাচ বাগানে ছত্রাক হানার আশঙ্কা। এদিকে, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ধস অব্যাহত। মঙ্গলবার ধসে দার্জিলিংয়ে তিনটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধস ও তিস্তা নদীর ভাঙনে বিধ্বস্ত কালিম্পংয়ের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এখনও সংশ্লিষ্ট সড়কের লিকুভির, সেলফিদারা, বিরিকদারা প্রভৃতি এলাকা এখনও মেরামত হয়নি। নদী ভাঙনের জেরে এদিনও সেলফিদারায় কিছুটা অংশ ধসে গিয়েছে। লিকুভিরে পাহাড় থেকে বোল্ডারও ঝড়ে পড়ে। যার জেরে টানা ১০ দিন ধরে রাস্তাটি বন্ধ। এনিয়ে কালিম্পংবাসী চরম সঙ্কটে পড়েছেন।
কালিম্পংবাসীর একাংশ বলেন, নার্সারিতে তৈরি ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, অর্কিড সময়মতো শিলিগুড়ির বাজারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেইসব সব্জি ও অর্কিডের উপযুক্ত দাম মিলছে না। আবার শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে আলু, পেঁয়াজ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অনেকটা ঘুরপথে পাহাড়ে এনেও উপযুক্ত দাম মিলছে না। এই অবস্থায় বৃষ্টিতে এলাচ বাগানে ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার এই অর্থকরী মশলার উৎপাদনও মার খাবে বলে আশঙ্কা। সব মিলিয়ে আমরা উভয় সঙ্কটের মধ্যদিয়ে দিন গুজরান করছি। প্রশাসন সূত্রের খবর, কালিম্পং জেলায় এলাচ চাষের জমির পরিমাণ প্রায় ১৫০০ হেক্টর। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় দত্ত বলেন, ছত্রাকজনিত রোগ থেকে এলাচ বাগান বাঁচাতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পলি হাউসে উৎপাদিত সব্জি বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে। কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুহ্মণ্যম বলেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকলেও সব্জি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর জোগানে আকাল দেখা দেয়নি। বিকল্প কিছু রাস্তা খোলা থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বর্ষার মরশুম হওয়ায় সব্জির দাম কিছুটা বেড়েছে। দাম নিয়েন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।
এদিকে শুধু কালিম্পং নয়, এনএইচ-১০ প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমেরও লাইফ লাইন। ধসের জেরে সিকিমেও সংশ্লিষ্ট রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যার প্রভাব শিলিগুড়ির বাজারেও পড়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কালিম্পং ও সিকিমের লোক সমাগম কমায় বাজারে কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। শিলিগুড়ি ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল কমিশন এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শিবকুমার বলেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় বাজারে প্রভাব পড়েছে। কেনাকাটার জন্য পাহাড় থেকে সাধরণ মানুষ আসছে না। শিলিগুড়ির বৃহত্তম খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায় মহুরি বলেন, পাহাড়ের লাইফ লাইন বন্ধ থাকায় এখানকার বাজার মন্দা। শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের সচিব অনুপম মৈত্র অবশ্য বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, এদিন ধসে ঋষভ বাজারে একটি এবং পুলবাজারে একটি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্শিয়াং শহরের ভিক্টরিয়া এলাকা ধসে রাস্তা ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও বন্ধ দার্জিলিংগামী ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক। নিজস্ব চিত্র