সংবাদদাতা, বানারহাট: চা বাগানের অলিগলি দিয়ে অবাধে ঘুরে বেরাচ্ছে ‹মানুষ খেকো› সেই চিতাবাঘ। শিশুকে খুবলে খাওয়ার পাঁচদিন পরও ঘাতক চিতাবাঘ ধরা পড়েনি। তার জেরে আতঙ্কে বানারহাট ব্লকের তোতাপাড়া চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলি। চিতাবাঘটি ধরতে নাজেহাল বনদপ্তর। সোমবার একটি ছায়া গাছের উপরে দুটি চিতাবাঘ বসে থাকার ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শ্রমিক মহল্লায় সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ফলে এই বাগানের কিছু অংশে কাঁচা চা পাতা তোলার কাজ চললেও সন্ধ্যার পর থেকে সকলেই ঘরবন্দি হয়ে থাকছেন। তোতাপাড়ার এই ঘটনার রেশ পড়েছে পার্শ্ববর্তী চা বাগানগুলিতেও। চিতাবাঘের আতঙ্ক তাড়া করেছে তাদের। সেজন্য মোগলকাটা, গ্যান্দ্রাপাড়া চা বাগানে পাতা তোলার সময় বাজি পটকা ফাটিয়ে কাজ করাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বনদপ্তরের বসানো খাঁচায় ধরা পড়েনি ঘাতক চিতাবাঘটি। বাগানে বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরাতেও সেটি দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে এক সেকশন থেকে অন্য সেকশনে খাঁচা নিয়ে দৌড়োদৌড়ি করতে হচ্ছে বনকর্মীদের। এই আতঙ্কের মধ্যে মঙ্গলবার তোতাপাড়া চা বাগানে প্রচার চালায় বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রান দপ্তর। চা শ্রমিক দুর্গী ওরাওঁ বলেন, এখনও চিতাবাঘটি খাঁচায় ধরা পরেনি। আমরা আতঙ্কে। পিঙ্কি ওরাওঁ নামে অপর শ্রমিক বলেন, ঘটনার পর থেকে সবাই ভয়ে ভয়ে রয়েছি। গত শুক্রবার বিকেলে চারবন্ধু চা বাগানে শাক তুলতে যায়। বাড়ি ফেরার সময় বাগানের ৬ নম্বর সেকশনে ছয় বছরের দিলজিৎ মাহালিকে টেনে নিয়ে যায় একটি চিতাবাঘ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর চা বাগানের ভিতর থেকে শিশুটির রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তারপরই খাঁচা পাতা হলেও চিতাবাঘ ধরা না পড়ায় সকলে আতঙ্কে। বিজেপি সমর্থিত তোতাপাড়া চা বাগানের বিটিডব্লিউইউ-এর সহ সভাপতি রমেশ ওরাওঁ বলেন, বাগানে মাঝেমাঝেই চিতাবাঘ দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকরা আতঙ্কে রয়েছেন।
এই ব্যাপারে বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার রেঞ্জার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস বলেন, চিতাবাঘ ধরার জন্য খাঁচা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বসানো হচ্ছে। মৃত শিশুর পরিবারকে বনদপ্তরের নিয়ম মেনে পাঁচলক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।