• বিপদসীমায় শিসামারা নদী, তৈরি ত্রাণশিবির, চালু হল কন্ট্রোল রুম
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: শিসামারা নদীর জল বিপদসীমা ছুঁয়েছে। যে কোনও সময় জল ঢুকে ভেসে যেতে পারে শালকুমার -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চারটি মৌজায়। এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতা হিসেবে দুর্গতদের সরানো শুরু করল প্রশাসন। নদীর ভেঙে যাওয়া জিওটেক বাঁধের অংশ বালি ও মাটির বস্তা ফেলে জল আটকানোর চেষ্টা করছে সেচদপ্তর। নজরদারির জন্য শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।  


    জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে এসে শালকুমারের পাশ দিয়ে খরস্রোতা নদী শিসামারা তোর্সায় মিশেছে। কয়েকদিন আগে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে শিসামারার ৩৫০ মিটার জিওসিন্থেটিক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন থেকে সেচদপ্তর বাঁধের ভাঙা অংশ মাটি ও বালির বস্তা ফেলে মেরামতের চেষ্টা করছে। কিন্তু, এলাকাবাসী মনে করছেন, বালির বস্তা ফেলে শিসামারার স্রোতকে বাগে আনা কার্যত অসম্ভব। 


    পরিস্থিতি সামাল দিতে কন্ট্রোল রুমে পুলিসকে মোতায়েন করা হয়েছে। জলদাপাড়া জঙ্গল লাগোয়া ওই পঞ্চায়েত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও বেহাল। রয়েছে হাতির হামলার ভয়ও। তাই পঞ্চায়েত অফিসে প্রশাসন থেকে একাধিক জেনারেটর রাখা হচ্ছে।   


    আলিপুরদুয়ার-১ এর বিডিও জয়ন্ত রায় বলেন, শিসামারার জল বিপদসীমা ছুঁয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য শালকুমার-১ পঞ্চায়েত অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোলরুমে পুলিস ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের রাখা হচ্ছে। গ্রামে জল ঢুকলে যাতে বাসিন্দাদের দ্রুত উদ্ধার করা যায় সেই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিপর্যয় দেখা দিলে দুর্গতদের  লালটুরাম হাইস্কুলের ত্রাণশিবিরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে ব্লক প্রশাসন। স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিসামারার জল চারটি মৌজায় ঢুকে গেলে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলির একহাজার পরিবারকে শিবিরে সরাতে হতে পারে।


    এই ব্যাপারে শালকুমার-১ পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রীবাস রায় বলেন, শিসামারার জল বিপদসীমা ছুঁয়েছে। যে কোন মুহুর্তে সিধাবাড়ি, নতুন পাড়া, মুন্সীপাড়া ও সুরিপাড়া এই চারটি মৌজায় জল ঢুকে যেতে পারে। চারটি মৌজায় কমপক্ষে হাজারখানেক পরিবারকে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যেতে হতে পারে। তার জন্যই লালটুরাম হাইস্কুলে ত্রাণশিবির খোলার পরিকল্পনা চলছে।   সোনাপুর ফাঁড়ির ওসি অমিত শর্মা বলেন, বিপর্যয় হলে ত্রাণ শিবিরে লুঠপাট হতে পারে। এলাকার আইনশৃঙ্খলাও ভেঙে পড়তে পারে। সেজন্য পঞ্চায়েত অফিসে সর্বক্ষণের জন্য পুলিস রাখা হয়েছে। আমরাও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। গ্রামবাসীকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)