নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইংলিশবাজার শহরে দিনভর জ্বলছে পথবাতি। শহরের স্টেশন রোড সহ একাধিক রাস্তায় দিনের বেলায় আলো জ্বলতে থাকার বিষয়টি নজরে পড়েছে। অর্থের অভাবে একেই পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে দিনে পথবাতি জ্বললে পুর কর্তৃপক্ষকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল গুনতে হবে। সেক্ষেত্রে পুরসভার উপর আর্থিক বোঝা আরও বাড়বে। ফলে দ্রুত এব্যাপারে পুর কর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে শহরবাসী মনে করছে। পরিবেশ রক্ষার জন্যও বিদ্যুৎ সাশ্রয় জরুরী বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।
ইংলিশবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন সুমালা আগরওয়ালা বলেন, পথবাতিগুলিতে ‘টাইমার’ লাগানো আছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর সেগুলি যাতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে নিভে যায়, তারজন্য ওই ব্যবস্থা। ফলে দিনের বেলা আলো জ্বলার কথা নয়। সংশ্লিষ্ট রাস্তায় কেন দিনে আলো জ্বলছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইংলিশবাজার পুরসভার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এর আগে টাকার অভাবে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ভাতা প্রদান থমকে গিয়েছিল। আর্থিক হাল ফেরাতে পুরসভার তরফে কর আদায়ের উপর জোর দেওয়া হয়। শহরে বকেয়া সম্পত্তি করের বহর অনেক বেশি ছিল। পুর কর্তৃপক্ষ সেই বকেয়া আদায় শুরু করে। তারজন্য সংশ্লিষ্টদের নোটিশও পাঠানো হয়। আয় বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়ার ফলে পুরসভার নিজস্ব তহবিল বেশ কিছুটা পুষ্ট হয়। কিন্তু এখনও আর্থিক পরিস্থিতি আশানুরূপ স্বচ্ছল হয়নি বলে পুর কর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন। এরমধ্যে পথবাতি নিয়ে পুরসভার উদাসীনতা আর্থিক বোঝা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরসভা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে মূলত দু’ধরনের পথবাতি রয়েছে। শহরের বড় রাস্তাগুলিতে ডিভাইডারে বসানো স্ট্যান্ডের সঙ্গে এক বা একাধিক বাতি লাগানো আছে। আবার বিদ্যুতের খুঁটি বা তারের সঙ্গে বাল্ব লাগিয়ে শহরের ছোট রাস্তা, সঙ্কীর্ণ গলিগুলিকে আলোকিত করা হয়। কিছু জায়গায় অবশ্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওতায় সৌর পথবাতিও বসানো হয়েছে। সেগুলির ব্যাটারি সূর্যের আলোতে চার্জ হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে। আবার নির্দিষ্ট সময়ে আলো নিভে যায়। আলো জ্বালানো বা নেভানো সময়মতো হচ্ছিল না বলে পুরসভার পথবাতিগুলিতেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা লাগানো হয়। কিন্তু তারপরেও দিনের আলোয় পথবাতি কেনও জ্বলছে তা নিয়ে পুরকর্মীরা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।